সারদাকাণ্ডে আগে থেকেই সব জানতেন মুখ্যমন্ত্রী, তবু ব্যবস্থা নেননি, ২৪ ঘণ্টাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তৃণমূলের প্রথম সারির নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন কুণাল ঘোষ

Last Updated: Saturday, November 23, 2013 - 11:59

সারদার ঘটনা নিয়ে রাজ্য সরকার দায় এড়াতে পারে না। সব কথাই জানতেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এ নিয়ে মহাকরণে চিঠিও পাঠানো হয়েছিল। তবু নড়েচড়ে বসেনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসন। শুক্রবার গভীর রাতে ২৪ ঘণ্টাকে একান্ত সাক্ষাত্কারে এই বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন কুণাল ঘোষ। নাম না করে বলেই ফেললেন, সারদার সমস্ত কার্যকলাপ সম্পর্কে আগে থেকেই জানতেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীও।
সারদাকাণ্ডের জন্য তাঁকে যদি গ্রেফতার করা হয়, তা হলে তিনি পুলিসের কাছে নয় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দিতে চান। এ ব্যাপারে আইনজীবীদের সঙ্গে তিনি কথাও বলছেন। শুক্রবার রাতে এ কথা জানালেন কুণাল ঘোষ।
সারদাকাণ্ডের তদন্ত পুরোটাই সাজানো। স্ক্রিপটেড। সুদীপ্ত সেনের পালানোপর্ব থেকে শুরু করে গতকাল রাতে কুণাল ঘোষের বাড়িতে পুলিসের যাওয়া--সবই পূর্বপরিকল্পিত। কয়েক জনকে আড়াল করতে কৌশলে এই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে যে, সারদা মানেই মিডিয়া। এবং মিডিয়া মানেই কুণাল ঘোষ। গতরাতে ২৪ ঘণ্টাকে ব্যক্তিগত সাক্ষাত্কারে এই অভিযোগই করলেন তৃণমূল সাংসদ। তিনি বারবার বলা সত্ত্বেও পুলিস অন্যদের জেরায় ডাকছে না। তবু পুলিসের বিরুদ্ধে তাঁর কোনও ক্ষোভ নেই। কারণ, কুণালবাবু মনে করেন, পুলিস নির্দেশ মতো নিজের কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি অত্যন্ত খারাপ লোক। মদন মিত্রর এই অভিযোগ মেনে নিচ্ছেন কুণাল ঘোষ। কিন্তু তাঁর পাল্টা বক্তব্য, মদন মিত্র তো একবারও বলছেন না বিষ্ণুপুরে তিনি কী ভাবে সুদীপ্ত সেনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হলেন? কোন বিশ্বাস থেকে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে তিনি সারদাকর্তাকে দরাজ সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন? দু`জনের মধ্যে এমন কোন ভরসার জায়গা ছিল, যা থেকে সারদার সমস্ত কর্মচারী ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট পদে বসেছিলেন মদন মিত্র।  
আইন আইনের পথে চলবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। কুণাল ঘোষ প্রসঙ্গে গতকাল মুকুল রায়ের এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে কুণাল ঘোষ বললেন, আইন আইনের পথেই চলুক। দল যেন কাউকে আড়াল না করে। মুকুল রায় ওই মন্তব্য করে আসলে তাঁকে মন খুলে কথা বলার পথই খুলে দিয়েছেন বলে মনে করেন কুণালবাবু। তিনি যদি এরপর তৃণমূলের লোকজনের নাম প্রকাশ্যে আনেন, তা হলে তা যেন দলবিরোধী বলে মনে না করা হয়। এমনটাই আশা কুণাল ঘোষের।  
পাঁচজনকে নিয়ে কাজ করতে চেয়েছিলেন। বড় হতে চেয়েছিলেন। আর তাই জড়িয়ে পড়তে হয়েছে সারদাকাণ্ডে। তাঁর কাঁধে রেখে বন্দুক ফাটাতে চাইছে তাঁর দলেরই হেভিওয়েট নেতারা। বিস্ফোরক মন্তব্য কুণাল ঘোষের।



First Published: Saturday, November 23, 2013 - 11:59


comments powered by Disqus