দিদিকে মাথার ওপর রেখে কুণাল বলছেন, দলের বদনাম করিনি

একসময়ে তিনি ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর প্রথম শহিদ দিবসের অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের ভূমিকায় হোক কিংবা মহাকরণে অলিন্দে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে। কলকাতা হোক, পাহাড় বা দিল্লিতে দিদি যেখানে তিনি থাকতেন পাশে। কিন্তু আজ তিনি বিতাড়িত। অভিযোগ দল বিরোধী মন্তব্য।

Updated: Sep 28, 2013, 06:10 PM IST

একসময়ে তিনি ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর প্রথম শহিদ দিবসের অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের ভূমিকায় হোক কিংবা মহাকরণে অলিন্দে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে। কলকাতা হোক, পাহাড় বা দিল্লিতে দিদি যেখানে তিনি থাকতেন পাশে। কিন্তু আজ তিনি বিতাড়িত। অভিযোগ দল বিরোধী মন্তব্য।
এরপর শেষে সাংবাদিক বৈঠক ডাকা ছাড়া হয়ত আর রাস্তা খোলা ছিল না তৃণমূলের সদ্য বিতাড়িত সাংসদ কুণাল ঘোষের। প্রথমের দায় এড়ালেন দলের `বদনাম` করার। সাফ জানালেন, "আমি দলের বদনাম করিনি।" সারদাকাণ্ডে তদন্তের জন্য বিধাননগর কমিশনারেটে আসা যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার খাতিরে তাঁকে মুখ খুলতে হয়েছে বলে যুক্তি কুণালের। তবে তাতে `দলবিরোধী`কিছুই দেখছেন না তিনি।
এবার কী করবেন? পরবর্তী পরিকল্পনা শোনালেন কুণাল। দলের কাছে তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি আগেই করেছিলেন তিনি। অনেক কিছু স্পষ্ট করার আছে রাজ্যসভার সাংসদ। যদিও তাঁর দাবি সাসপেন্ড হওয়া অথবা শোকজের কোনওটিরই চিঠি তিনি পাননি দলের তরফে। তিনি বলেন,"আমি দলের তরফে কোনও শোকজ নোটিশও পাইনি। সাংবাদিকদের থেকে জেনেছি আমাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।" তিনি আরও বলেন, ``আমি দলের সৈনিক, তাই মুকুল রায় ও পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলব। আমি তাঁদের সঙ্গে সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।"
কিন্তু কেন পার্থ বাবু? কেনই বা মুকুল রায়? কুনাল বাবু সরাসরি কেন একবার ফোন করছেন না দিদিকে? সাংবাদিক বৈঠকে ওঠা প্রশ্নগুলো এড়িয়ে যেতে পারলেন না কুণাল। আক্ষেপ মেশা সুরে টানা বলে গেলেন তিনি, "আমি দিদিকে ভালবাসি, তৃণমূলকে ভালবাসি। মুখ্যমন্ত্রী মাথার ওপরে আছেন। তবে আমি প্রথম পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রথম কথা বলব। কারণ আমাকে সাসপেন্ড করার ঘোষণাটা তিনিই করেন।"
দলের বিরুদ্ধে মুখ খোলায় শনিবারই তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড করা হল সাংসদ কুণাল ঘোষকে। এদিন দুপুরে তৃণমূল ভবন সাংবাদিক সম্মেলনে এই কথা ঘোষণা করলেন দলের মহাসচিব পার্থ চ্যাটার্জি।
পার্থ চ্যাটার্জি বললেন, `দলবিরোধী কাজ করায় কুণাল ঘোষকে সাসপেন্ড করা হল।` কুণালের মন্তব্যে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলেও জানালেন তৃণমূল মহাসচিব। তবে দলের বিরুদ্ধে তোপ দেগেও রক্ষা পেয়ে গেলেন দুই সাংসদ তাপস পাল ও শতাব্দী রায়। তাপস পাল-শতাব্দী রায় মমতার কাছে চিঠি লিখে অনুতপ্ত বোধ করায় তাদের শাস্তি দেওয়া হল না বলে তৃণমূল মহাসচিব জানান।