পুলিসি `অসহিষ্ণুতার` নিন্দায় মুখর রাজনৈতিক শিবির

Update: November 14, 2012 17:41 IST

দুবরাজপুরের পর এবার নদীয়ার তেহট্ট। রাজ্য আইন শৃঙ্খনার `মুখিয়া` বারংবার যতই দাবি করুন `কিছুই হয়নি`। আজকের ঘটনায় আবারও স্পষ্ট, জেলা স্তরের পুলিসি বাড়বড়ন্তে লাগাম পড়াতে ব্যর্থ মুখ্যমন্ত্রী। নদীয়ার তেহট্টে পুলিসের গুলি চালনা নিয়ে ইতিমধ্যেই মন্তব্য এড়িয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মণীশ তিওয়ারি। কী প্রেক্ষিতে পুলিস কী করেছে, তার বিস্তারিত বিবরণ জেনে তিনি প্রতিক্রিয়া দেবেন বলে জানিয়েছেন।

এই ঘটনায় প্রত্যাশিত ভাবেই কড়া প্রতিক্রিয়ার মিলেছে রাজ্যের প্রমুখ রাজনৈতিক দলগুলির পক্ষ থেকে। "সরকার পুলিসকে নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ। তাই রাজ্য পুলিস ট্রিগারনির্ভর হয়ে গেছে", নদিয়ার তেহট্টে পুলিসের গুলিতে একজনের মৃত্যুর ঘটনায় একথা বলেছেন কেন্দ্রীয় রেলপ্রতিমন্ত্রী অধীর চৌধুরী। তিনি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। "এই ঘটনা রাজ্য সরকারের দায়িত্বজ্ঞানহীনতারই পরিচয়।" ঘটনার তীব্র নিন্দা করে একথা বলেন কংগ্রেস নেতা ওমপ্রকাশ মিশ্র। তাঁর মতে, একদিকে প্রশাসনিক ঘাটতি অন্যদিকে সরকারের অসহিষ্ণুতার কারণেই এধরনের ঘটনা ঘটছে। বিজেপির তরফেও গুলি চালনার সমালোচনা করা হয়েছে। বিজেপি রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা এই ঘটনার জন্য সরাসরি প্রশাসনকেই দায়ী করেছেন। আগামিকাল তেহট্টে যাচ্ছে বিজেপির প্রতিনিধিদল।


জগদ্ধাত্রী পুজো নিয়ে গোলমালের জেরে নদিয়ার তেহট্টে গুলি চালায় পুলিস। পুলিসের গুলিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিসের ভুমিকার তীব্র নিন্দা করেছেন তেহট্টের বিধায়ক রঞ্জিত মণ্ডলও। এই ঘটনার নিন্দা করতে ছাড়েননি বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র। গুলি চালানোর মতো পরিস্থিতি ছিল না বলেই মন্তব্য করেন তিনি। তেহট্টে পুলিসি `অসহিষ্ণুতার` সমালোচনায় মুখর হয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি প্রদীপ ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, "সরকারের অসহিষ্ণুতার প্রভাব পড়ছে পুলিসের ওপর।" তার ফলেই এধরনের ঘটনা বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। সিপিআইএম নেতা রবীন দেব বলেন, "সরকারের মধ্যে সহনশীলতার অভাব দেখা যাচ্ছে। তার জেরেই তেহট্টের মতো ঘটনা ঘটছে।" তাঁর অভিযোগ, "বিভিন্ন ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে ছোট ঘটনা বলে কোনও ইস্যুকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তার জেরেই এই ধরনের ঘটনা বাড়ছে।" রবীন দেব জানিয়েছেন, আগামিকাল তেহট্টে যাচ্ছেন বাম প্রতিনিধি দল। গুলি চালিয়ে এধরনের সমস্যার সমাধান হবে না। নদিয়ার তেহট্টে পুলিসের গুলিতে একজনের মৃত্যুর ঘটনা প্রসঙ্গে একথা বলেন সিপিআইএম নেতা মহম্মদ সেলিম। তাঁর বক্তব্য, "এই ধরনের পরিস্থিতিতে পুলিসকে আরও সংবেদনশীল এবং দায়িত্বশীল ভুমিকা পালন করতে হবে।" এদিনের ন্যাক্কারজনক ঘটনায় সরাসরি প্রশাসনকেই দায়ী করেছেন বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য।

Post Your Comment

Total Comments:6

Impatience- It is due to LAWS OF INDUCTION,percolated from Hon Home Minister.

Jekhane pujakomiti 10 egaro bochor dhore puja korche. Sei komiti ba r o onyanyo komiti k pujar permisson dewa hocche na keno?

Guli kano challo seta dekha uchit ar guli chalano kokhonouchit noi

sib thakurer apon deshe ein kanun sarboneshe....

একটি সংগঠনকে এ বছর পুজোর অনুমতি দেয়নি প্রশাসন। যদিও গত দশ বছর ধরে তারা পুজো করে আসছে। এখানে পুলিশ গুন্ডামি করেছে, ছিঃ পুলিশ ছিঃ।

Andhakar-er rajjotto cholche ebar aloi fera dorkar.

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।