প্রকল্প করে মানুষের আমানত সুরক্ষার ভাবনা মুখ্যমন্ত্রীর

Last Updated: Wednesday, May 8, 2013 - 14:32

সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে নাস্তানাবুদ সরকার। মোকাবিলা করতে রাজ্যের অধীনে নয়া আর্থিক স্কিম ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু সত্যিই কি এমন স্কিম চালানো রাজ্য সরকারের পক্ষে সম্ভব? 
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, ভুঁইফোঁড় আর্থিক সংস্থাগুলোর প্রতারণা ঠেকাতে রাজ্য সরকার একটি নয়া আর্থিক স্কিম চালু করতে চলেছে। কেন্দ্র এবং রাজ্যের আর্থিক সংস্থাগুলো সূত্রে খবর, এরকম স্কিম চালু করার পথ খোলা রয়েছে রাজ্যের সামনে। কী সেই পথ?
 
নন ব্যাঙ্কিং ফিনানশিয়াল কর্পোরেশনের মাধ্যমে বাজার থেকে টাকা তুলতে পারে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই রাজ্যের অধীনে এরকম দুটি সংস্থা রয়েছে-- একটি ওয়েস্টবেঙ্গল ফিনানশিয়াল ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশন। দ্বিতীয়টি, ওয়েস্টবেঙ্গল ইনফ্রাস্ট্রাকচর ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশন। তবে সুদের হার ঠিক করতে আইন করতে হবে রাজ্য সরকারকে।  
 
তবে এই দুটি সংস্থার বাইরে বেরিয়ে নতুন সংস্থা করে টাকা তুলতে হলে, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের অনুমোদন প্রয়োজন। ১৯৭৮ সালে ব্যাঙ্ক অফ ওয়েস্টবেঙ্গল গড়ার উদ্যোগ নেন তত্কালীন অর্থমন্ত্রী অশোক মিত্র। কিন্তু তা অনুমোদন করেনি কেন্দ্র। মনে করা হচ্ছে, পুরনো এই অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে ব্যাঙ্ক নয়, নন ব্যাঙ্কিং কর্পোরেশনের পথেই নতুন আর্থিক স্কিমের কথা ভাবছে রাজ্য সরকার।
 
রাজনৈতিক মহলের ধারনা, এই স্কিম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেশ কয়েকটি সুবিধা দিতে পারে--
প্রথমত, এর ফলে রাজ্য সরকারের ভাঁড়ারে টাকা আসতে পারে।
দ্বিতীয়ত, এই প্রকল্পের এজেন্টদের রাজনৈতিক সমর্থন পাওয়ার সুযোগ থাকছে শাসক দলের। সারদা কাণ্ডে সেরকম সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাসক দলরে বিরুদ্ধে।
এছাড়াও, চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে সরকারের ইমেজে যে ধাক্কা লেগেছে, তা কিছুটা পুনরুদ্ধার হতে পারে।
 
তবে আশঙ্কার কথাও শোনা যাচ্ছে, কোনও কোনও মহলে। ব্যাঙ্ক, স্বল্পসঞ্চয় প্রকল্পের চেয়ে  সত্যিই কি বেশি সুদ দেওয়া সম্ভব হবে এই স্কিমে? না হলে এই প্রকল্প কতটা আকর্ষণীয় হবে, সে প্রশ্ন থাকছেই। 



First Published: Wednesday, May 8, 2013 - 17:09


comments powered by Disqus