মন্ত্রীদের মুখেও লাগাম মুখ্যমন্ত্রীর

Update: December 6, 2012 08:23 IST

দলে বিক্ষোভ-বিদ্রোহে লাগাম পরাতে আগেই নেতাদের সংবাদমাধ্যের সামনে মুখ না খোলার ব্যাপারে নিয়ন্ত্রণ জারি করেছিল তৃণমূল নেতৃত্ব। এবার ফরমান জারি হল মন্ত্রীদের ওপরও। গতকাল মহাকরণে মন্ত্রিসভার সব সদস্যদের নিয়ে  নিজের ঘরে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন, কোনও বিষয়েই তাঁরা যেন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা না বলেন। যা বলার এখন থেকে তিনিই বলবেন।  

 সাংসদ কবীর সুমন, সুচারু হালদার থেকে বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। সংবাদমাধ্যমের সামনে দলের বিরুদ্ধে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিয়ে যথেষ্ঠই অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আসন্ন পঞ্চায়েত ভোটের আগে দলের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে তাই আসরে নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রীও। সোমবারই দলের নেতাদের সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলা নিয়ে ফরমান জারি হয়েছিল। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নামে দলের শীর্ষ নেতা ও বিধায়কদের পাঠানো ওই এসএমএসে বলা হয়েছিল, দলের পরামর্শ অনুযায়ী আপনাদের অবগত করা হচ্ছে যে দলের ছাড়পত্র না নিয়ে কোনও বৈদ্যুতিন সংবাদ মাধ্যমে কথা বলবেন না। এ বিষয়ে ছাড়পত্র পেতে হলে আপনারা শ্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। অথবা তাঁকে ফোনে বার্তা পাঠাতে পারেন।

বুধবার ফরমান জারি হল মন্ত্রীদের জন্যও। মহাকরণে নিজের ঘরে মন্ত্রিসভার সদস্যদের মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন তাঁরা যেন কোনও বিষয়েই সংসাবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা না বলেন। এখন থেকে যা বলার তিনি নিজেই বলবেন। অর্থাত্‍ এখন থেকে নিজেদের দফতর সংক্রান্ত কোনও বক্তব্য সংবাদমাধ্যমকে জানাতে পারবেন না মন্ত্রীরা। মুখ্যমন্ত্রীর এইনির্দেশে  রীতিমতো বিস্মিত হলেও বৈঠকের পর কেউই এনিয়ে মুখ খোলেননি। বুধবারের বৈঠকে  বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে মন্ত্রীদের জেলায় বেশি সময় দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পঞ্চায়েত নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই সম্ভবত মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশ বলে মনে করা হচ্ছে।

Post Your Comment

Total Comments:3

Once Mamata Benerjee asked the opponents to keep mum for ten years and now orders her ministers not to give any press statement without her permission. Are they Ministers or anything else? Is it possible for her to order herself to stop making false promises?

Hitlarer sashon suru hoyeche.Ar ora Mantri naki? ora to bherar dol.

KOTOJONER MUKHE LAGAM PORABEN?AASTE AASTE MAMATA BANERJEE CHARA TRINOMULE AR KAU THAKBE NA.

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।