জমি জটিলতার গেরোয় মেট্রো

সুড়ঙ্গ তৈরির প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হলেও, জমি জটিলতায় সংশয় দেখা দিয়েছে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর ভবিষ্যত ঘিরে। ইতিমধ্যেই বাড়ানো হয়েছে প্রকল্পের সময়সীমা ও বরাদ্দ। তাতেও প্রকল্প সময়ে শেষ হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েই গিয়েছে। জমি সমস্যা দ্রুত না মেটালে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে নির্মাণকারী সংস্থা।

Updated: Jun 10, 2012, 07:42 PM IST

সুড়ঙ্গ তৈরির প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হলেও, জমি জটিলতায় সংশয় দেখা দিয়েছে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর ভবিষ্যত ঘিরে। ইতিমধ্যেই বাড়ানো হয়েছে প্রকল্পের সময়সীমা ও বরাদ্দ। তাতেও প্রকল্প সময়ে শেষ হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েই গিয়েছে। জমি সমস্যা দ্রুত না মেটালে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে নির্মাণকারী সংস্থা।
রাজ্য সরকার, কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রক ও জাপানের একটি সংস্থার যৌথ উদ্যোগে তৈরি হচ্ছে ইস্ট ওয়েস্ট মেট্রো। পরিকল্পিত মেট্রোর তিনটি ভাগ। একটি হাওড়ার রামরাজাতলা থেকে গঙ্গার নীচ দিয়ে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ। দ্বিতীয়টি সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ থেকে বেলেঘাটার সুভাষ সরোবর। তৃতীয়টি সুভাষ সরোবর থেকে সল্টলেকের সেক্টর ফাইভ। সুভাষ সরোবর থেকে সেন্ট্রাল পর্যন্ত সুড়ঙ্গ তৈরি করছে তাইল্যান্ডের সংস্থা আটিডি। সুভাষ সরোবর থেকে ফুলবাগান পর্যন্ত একদিকের সাড়ে সাতশো মিটার সুড়ঙ্গ তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। এখন চলছে ওই রুটেই আরেকটি টানেল তৈরির কাজ। মাটি কাটায় ব্যবহার হচ্ছে ছয় মিটার ব্যাসের অতিকায় জার্মান যন্ত্র।
এই কর্মযজ্ঞের মাঝেই প্রকল্পের সংশয় দেখা দিয়েছে ভূগর্ভস্থ ফুলবাগান স্টেশনের ভবিষ্যত নিয়ে। বেনফিস সহ বেশ কয়েকটি দোকান এখনও জমি না ছাড়ায় থমকে গিয়েছে একই সমস্যা ভূগর্ভস্থ শিয়ালদহ স্টেশনকে ঘিরেও। স্টেশনের পরিকল্পিত স্থানে রয়েছে বিআর সিং হাসপাতালের  জলের ট্যাঙ্ক আর চিলিং প্লান্ট। রয়েছে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার সিগন্যালিং কেবিন এবং স্টেশনের জলের ট্যাঙ্কও। জমিজট রয়েছে, ইএম বাইপাস লাগোয়া দত্তাবাদ ও বউবাজার এলাকাতেও। ওই রুটে বেশ কয়েকটি দোকান সরানো নিয়ে সমস্যা এখনও মেটেনি।
দুহাজার দশে শুরু হয়েছিল প্রকল্পের কাজ। সেসময় খরচ ধরা হয়েছিল ৪ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৪ সালে। বিভিন্ন জটিলতায় প্রকল্পের সময়সীমা ইতিমধ্যেই দুবছর পিছিয়ে গিয়েছে। খরচ বাড়িয়ে ধরা হয়েছে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা। তা সত্ত্বেও বিভিন্ন জটিলতায় কাজের গতি রুদ্ধ হওয়ায় প্রতিমাসেই খরচের পরিমাণ হুহু করে বাড়ছে। সমস্যা না মিটলে শিগগিরই কাজ বন্ধের হুমকিও দেওয়া হয়েছে নির্মাণকারী সংস্থার তরফে। যদিও, প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজি হননি সংশ্লিষ্ট সংস্থার আধিকারিকরা।