বর্ষার খামখেয়ালীপনায় মহার্ঘ ইলিশ

Update: July 16, 2012 21:39 IST

মহানন্দার জলে প্লাবিত উত্তরবঙ্গ। এদিকে বর্ষার আনুকুল্য থেকে একেবারেই বঞ্চিত দক্ষিণবঙ্গ। ফলে খাতায় কলমে ভর বর্ষার মরসুমেও বাঙালির পাতে গরহাজির রূপোলি ইলিশ।

ভাল বর্ষা না হওয়ায় বাজারে বড় ইলিশের দেখা মিলছেনা। পদ্মার রানী তো দুরস্ত, দীঘার মোহনা থেকেও এখনও শহরের বাজারে আসেনি সে। যেটুকু এসেছে, তাতে মধ্যবিত্তের খুশি হবার কারণ নেই। বরং আশঙ্কা রয়েছে ষোলো আনা। কারণ মহার্ঘ সেই মাছের রানীর দাম ১০০০ কোঠায়। সোমবার বাজারে গিয়ে তাই কপালে ভাঁজ মধ্যবিত্ত ক্রেতার। এদিনের ইলিশের বাজারদর ছিল-
 
বাংলাদেশি ইলিশ ১০০০ টাকা কেজি
দীঘার মাঝারি ইলিশ ৯০০ টাকা
স্থানীয় ছোট ইলিশ ৭০০ টাকা
 
কিন্তু এই আকালের কারণ কী? মেদিনীপুরের মত্স্যজীবীদের বক্তব্য অনুযায়ী, পূবালি হাওয়ার টানে প্রতি বর্ষায় বঙ্গোপসাগরে হাজারে হাজারে ঢুকে পড়ে ইলিশের ঝাঁক। সেই ইলিশে স্বাদ আসে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে। এবার দুয়েরই আকাল। তাই আকাল ইলিশেরও। মত্স্যজীবীরা বলছেন, গত ২ মরশুম ধরেই ইলিশ ধরার হার কমছিল। এবার প্রায় তা পঞ্চাশ শতাংশ কমে গিয়েছে। ইলিশের অভাব প্রভাব ফেলেছে পূর্ব মেদিনীপুরের অর্থনীতিতেও। জেলার অর্থনীতির এক বড় অংশ আসে মাছ থেকেই। কিন্তু, ৬ জুন থেকে শুরু হওয়া ইলিশ ধরার মরসুমের ছবিটা বড়ই করুণ।

মত্স্যজীবীদের অভিযোগ, ভারতীয় জলসীমার মধ্যে স্যান্ডহেড এলাকা থেকে মাছ চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে বিদেশি ট্রলার। তাতেও মার খাচ্ছে তাদের জীবিকা।  উন্নত দেশগুলিতে অর্থনৈতিক সঙ্কটও ইলিশ ব্যবসায় মন্দার অন্যতম কারণ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগে আমেরিকা, জাপান, ইউরোপে বছরে প্রায় তিনশো কোটি টাকার ইলিশ রফতানি করতেন তাঁরা। কিন্তু, এবার প্যাকিং হওয়ার পরেও হিমঘরেই পড়ে রয়েছে ইলিশ। চড়া দামের চোটে কেনার লোক নেই। সব মিলিয়ে আকাল ইলিশের।
 







Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।