নোয়াপাড়ায় আক্রন্ত ২৪ ঘণ্টা, ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করছে স্থানীয়রা

Last Updated: Friday, July 5, 2013 - 10:38

প্রতিবাদ জোর নিচ্ছে নোয়াপাড়ায়। ইভটিজিংকাণ্ডের প্রতিবাদ করার এক ছাত্র আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় আগেথেকেই ফুঁসছিল এলাকার মানুষ। আজ সেখানে খবর করতে গেলে আক্রান্ত হয় ২৪ ঘণ্টার প্রতিনিধিরা। বাধা দেওয়া হয় সাংবাদিকদের। হুমকি দেওয়া হয় স্থানীয়দেরও। এলাকার মানুষই চিনিয়ে দেন, যারা সেখানে হুমকি দিচ্ছে ও সংবাদমাধ্যমকে বাধা দিচ্ছেন তাঁরা স্থানীয় তৃণমূলের নেতা-কর্মী।  
চব্বিশ ঘণ্টার খবরের জের উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়ায় আইআইটি ছাত্রকে মারধরের অভিযোগে অবশেষে একজনকে গ্রেফতার করল পুলিস। ধৃতের নাম অভিজিত্ রায় ওরফে শানু রায়। ঘটনায় অভিযুক্ত অমিত রায় নামে আরও একজন ফেরার।
গত পরশু ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় দুষ্কৃতীদের হাতে প্রহৃত হন আইআইটির এক ছাত্র। রাস্তায় ফেলে ওই ছাত্র রিকি বিশ্বাস এবং তাঁর ভাইকে বেধড়ক মারধর করে দুষ্কৃতীরা। রিভলবার ঠেকিয়ে তাঁদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। গুয়াহাটি আইআইটির ওই ছাত্রের অভিযোগ, ডিউটি অফিসার তাঁদের তিনঘণ্টা থানায় বসিয়ে রাখেন। তারপর এফআইআর না নিয়ে জেনারেল ডায়েরি নেয় পুলিস।
২৪ ঘণ্টায় এই খবর সম্প্রচার হতেই উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পুলিস তত্পর হয়। নোয়াপাড়া থানার পুলিস তদন্ত শুরু করে। গতকাল রাতে অভিযান চালিয়ে ইছাপুর থেকে শানু রায়কে গ্রেফতার করে পুলিস।
এই ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া মিলেছে সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে। দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ইভটিজিং চললেও কেন পুলিস আগে ব্যবস্থা নেয়নি? কেনই বা নোয়াপাড়ার ঘটনায় জেনারেল ডায়েরি নিল পুলিস? পুলিস কী কোথাও নিজের হাত পরিষ্কার করতে চাইছে? নোয়াপাড়ার ঘটনায় এ প্রশ্নগুলিই তুললেন সমাজকর্মী শাশ্বতী ঘোষ।
নোয়াপাড়ার ঘটনায় যে পুলিসকর্মীরা এফআইআর নিতে অস্বীকার করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণ হলে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ। নোয়াপাড়ার ঘটনায় এমনই প্রতিক্রিয়া প্রাক্তন পুলিস কর্তা চয়ন মুখোপাধ্যায়ের।
উত্তর শহরতলি এলাকা দুষ্কৃতীদের মুক্তাঞ্চল হয়ে উঠেছে। এমনই প্রতিক্রিয়া সাহিত্যিক বাণী বসুর। মেয়েদের ওপর হামলার ঘটনা বাড়লেও কেন পুলিস সক্রিয় নয়, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।



First Published: Friday, July 5, 2013 - 17:37


comments powered by Disqus