তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে বলি ১, অগ্নিগর্ভ ধাপা, খড়দহ

Update: March 20, 2013 12:57 IST

তৃণমূলের দুটি গোষ্ঠীর সংঘর্ষে খাস কলকাতার বুকেই প্রাণ হারালেন এক তৃণমূল কর্মী। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই উত্তর চব্বিশ পরগনার খড়দহের পাতুলিয়ায় তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষের জেরে সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা।

খড়দার পাতুলিয়া। তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষের জেরে সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। অভিযোগ, মাঠ দখলকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এলাকায় ব্যাপক বোমাবাজি এবং কয়েক রাউন্ড গুলিও  চলে বলে অভিযোগ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিস। এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা রয়েছে।

জমি দখলকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের বিধায়ক এবং কাউন্সিলরের সমর্থকদের সংঘর্ষের জেরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় ধাপার মাঠপুকুর এলাকা। সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে স্থানীয় তৃণমূল কর্মী অধীর মাইতির। এই ঘটনায় অভিযুক্ত কাউন্সিলর শম্ভুনাথ কাউকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই পলাতক কাউন্সিলর শম্ভুনাথ কাউ।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকার একটি খাটাল উচ্ছেদকে ঘিরে সংঘর্ষের সূত্রপাত। অভিযোগ, আজ সকালে আটান্ন নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শম্ভুনাথ কাউএর সমর্থকেরা খাটাল উচ্ছেদে গেলে বাধা দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন তৃণমূল কর্মী অধীর মাইতি। অভিযোগ, অধীর মাইতিকে রড দিয়ে পেটানো হয়। তার জেরেই মৃত্যু হয় ওই তৃণমূল কর্মীর।

এর পরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। বিক্ষোভ হয় স্থানীয় তৃণমূল কার্যালয়ের সামনেও। শম্ভূনাথ কাউয়ের বিরুদ্ধে জমি দখল এবং বেআইনি প্রোমোটিংয়ের অভিযোগ এনেছেন বাসিন্দারা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশাল পুলিস বাহিনীর পাশাপাশি, মোতায়েন করা হয় র‍্যাফ।

খবর পেয়ে এলাকার বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহাকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানিয়ে দেন, ওই এলাকায় জমি অধিগ্রহণের কোনও নির্দেশ দেয়নি কলকাতা পুরসভা। পরে দমকলমন্ত্রী জাভেদ খান ঘটনাস্থলে গেলে তাঁকে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়।

পুরপিতা শম্ভুনাথ কাউয়ের সঙ্গে বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহা ও আরেক পুরপিতা জীবন সাহার গোষ্ঠীর বিবাদ দীর্ঘদিনের। এর আগেও পুকুর ভরাট, প্রোমোটিং সহ একাধিক বিষয় নিয়ে তাঁদের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বহু নির্দেশ সত্ত্বেও তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব যে অত্যন্ত প্রকট অধীর মাইতির মৃত্যুই তা প্রমাণ করে দিল।






Post Your Comment

Total Comments:12

আমি অত্যন্ত তুষ্ট। বিপ্লবের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন হচ্ছে নির্বোধের কর্মের দ্বারা। শোভন তত্‌সহ শ্বশুর সাধারন মানুষকে আপাতত গৃহচ্যুত করতে পারেন কিন্তু আগামীতে রাষ্ট্রশক্তি জনসাধারন এর দখলে আসার পথ সুগম করছেন। জনগনের মুক্তি জনগনেরই কাজ একথা মার্ক্সবাদ দ্বারা স্বীকৃত।

Choto ghotona.....

Choto ghotona.....

Now it is crystal clear from my experience that CM has no control over her party members.

শোভনের ঘটনা জলের মত পরিষ্কার। অন্তত বেহালার মানুষ জানে। আগের ``নির্মল-কেষ্টর``চেয়ে অনেক গুন এগিয়ে । আমাদের নেতাদের তো চেন না? চিনে নাও ভাই। নির্মল- কেষ্ট এ সুযোগটাই করে দিয়েছে বেহালায়। বেহালার কেষ্টও আর তার ভাইপোর হিসাব বুঝে নাও। একটা কাউন্সিলর সব বোঝে এই বেহালায় এবং এই কোলকাতায়! এটা নির্মল- কেষ্টর জল শোভন।

ekta chotto jhamela o tar janya ekta chotto khun!!!!but dukkhojanak.kothay acchi!?!?

বাঃ ! বাঃ ! যদুবংশ ধ্বংস হচ্ছে - তবে এই যদুবংশ ধ্বংস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সুখ -শান্তিও ধ্বংস করে যাচ্ছে ।

ছোট-খাটো ব্যাপার...

Aage ei samasto gondogol grame hoto. Ekhon Khod Kolkater Bookei chalche. Chaliye Jao Guru.Ami to achi

আগেকার দিনে বাপ ঠাকুরদারা কন ছেলে বা মেয়ের বিয়ে দেওয়ার আগে বংশ জেনেনিত। জুগের পরিবর্তন হয়েছে,এখন আর এসব কেও জিগ্যেস করেনা। থিক তেমনি বর্তমান সরকারের দল। এদের কন লক্কে বিচার করার দরকার নেয়, যে আসবে তাকে ধুকিয়ে নেবে এবং কন এক্তা বড় পদ দিয়ে দেবে। জার পরিনতি ধাপার মাথ।এই রকম সারা বাংলায় চলছে আর ভয়া বহ দিন আসছে ।আসলে নেত্রি কাউকে সন্মান দেয় না কাউকে বিশ্যাস করে না, তার সিশ্যরা কি ভাবে করবে।এর পর দেখবন গোসটি কোন্দলে সামরিক বাহিনি নামাতে হছে।

nijeder e ei obostha to rajjer ki hobe?

Bangla lekha pathanor age BANAN THIK KORUN

NATRI SORBOSSO DAL,NITIHIN DOLER GOSTIDHANDDO CHIROKAL CHILO EKHONO ACHHE VOBISYOTEO THAKBE. NIJERAI MARAMARI KORE MORBE.

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।