মমতার দিল্লি যাত্রা, অন্য সমীকরণ খুঁজছেন বিরোধীরা

Last Updated: Monday, April 8, 2013 - 21:05

রাজ্য বঞ্চানর শিকার। তাই দিল্লিতে বিচার চাইতে গেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে রাজ্যের আর্থিক দাবিদাওয়াই কি মুখ্যমন্ত্রীর রাজধানী সফরের একমাত্র উদ্দেশ্য? রাজনৈতিক মহলের ধারনা সফরের পিছনে রাজনৈতিক সমীকরণও রয়েছে।
কী সেই সমীকরণ? গত বাইশ মাসে অগুণতি বার, কখনও মুখ্যমন্ত্রী কখনও রাজ্যের অর্থমন্ত্রী দিল্লি ছুটেছেন। একটি উদ্দেশ্য নিয়েই ছুটেছেন তাঁরা। ঋণমকুব। কিন্তু, হাজারো দরবারের পরেও, ঋণমকুব করেনি কেন্দ্র। কারণ, কেন্দ্রের সেই সাংবিধানিক ক্ষমতাই নেই। আর জোটসম্পর্কের শেষের দিকে, সম্ভবত তা বুঝতেও পারছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে দেশজোড়া আন্দোলনের ডাকও দিয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি দিল্লিতে জাতীয় উন্নয়ন পরিষদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাতাশটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু তাতে যোগ দেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘনিষ্ঠ মহলে তাঁর ব্যাখ্যা ছিল, দিল্লি গিয়ে লাভ হয় না, কারণ কেন্দ্র কোনওভাবেই ঋণমকুব করবে না।
এবার দিল্লি যাওয়ার আগেও মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আর্থিক দাবিদাওয়া আদায় করতেই তিনি যাচ্ছেন। কিন্তু তাত্পর্যপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একান্তে বৈঠক করতে চান। আর সেই বৈঠক করতে চান, প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বিদেশ সফরে যাওয়ার আগেই। মুখ্যমন্ত্রীর এই একান্ত বৈঠকের ইচ্ছাপ্রকাশেই অন্য গন্ধ পাচ্ছেন বিরোধীরা। বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্রের ব্যাখ্যা, আর্থিক দাবিদাওয়ার মোড়কে রাজনৈতিক দর কষাকষির রাস্তাই প্রশস্ত করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে, তাহলে কি লোকসভা নির্বাচনের আগে টলমলে মনমোহন সিং সরকারকে আস্থার বার্তা দিতে যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
বামেদের মূল্যায়ণ, নিজের শর্তে কংগ্রেসের সঙ্গে বন্ধুত্ব পুনরুদ্ধার করতে না পারলে, দিল্লিতে অন্য রাস্তাও খুঁজতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একটা সময় মনে করা হচ্ছিল লোকসভার নির্বাচনের আগে বা পরে, জাতীয় রাজনীতিতে কোনও তৃতীয় বিকল্পের দিকে ঝুঁকতে পারেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। এখন পরিস্থিতি বদলেছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মমতা হয়তো ফের কংগ্রেস অথবা বিজেপি শিবিরেই ঝুঁকবেন।



First Published: Monday, April 8, 2013 - 21:05


comments powered by Disqus
Live Streaming of Lalbaugcha Raja