দু`বছরেও বিনিয়োগ সেই তিমিরেই

Last Updated: Sunday, May 19, 2013 - 22:39

আগামিকালই দুবছর পূর্তি হচ্ছে রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত সরকার। দুবছরে ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে রাজ্যের শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা শিল্পের হাল? এক নজরে শিল্পমন্ত্রকের সাফল্য-ব্যর্থতার খতিয়ান:
রাজ্য তৃণমূল পরিচালিত সরকার দুবছর হল ক্ষমতায় এসেছে। নির্বাচনী ইস্তেহার থেকেই সরকারের আশ্বাস ছিল রাজ্যে শিল্পায়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। সেই লক্ষ্যেই বিনিয়োগের প্রক্রিয়াকে আরও সরল করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী। চালু করেছেন সিঙ্গল উইনডো ব্যবস্থা। বিনিয়োগকারীদের লাল ফিতের বাঁধন থেকে মুক্ত করতে আবেদনের প্রক্রিয়াটিও আরও সহজতর করতে প্রশাসনিক সংষ্কারেও হাত লাগিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু তারপরও রাজ্যে বিনিয়োগের হকিকত কতটা বদলেছে? পরিসংখ্যান বলছে গত দুবছরের পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের শিল্পমন্ত্রক তেমন কোনও বড় বিনিয়োগের মুখ দেখাতে পারেনি এরাজ্যকে।
 
যেমন, নির্বাচনী আশ্বাস সত্ত্বেও জট খোলা সম্ভব হয়নি বন্ধ কলকারখানার। আর সেই সব জমিতে নতুন শিল্পস্থাপনের প্রশ্ন তো দূরঅস্ত। অভিজ্ঞতা বলছে, উল্টে গত দুবছরে আইনশৃঙ্খলা প্রশ্নে বার বারই ধাক্কা খেয়েছে রাজ্যের শিল্পোদ্যোগ। শিল্পতালুক গুলিতে তোলাবাজির মতো ঘটনা বেড়ে চলার চূড়ান্ত ফলশ্রুতি হিসেবে হলদিয়া থেকে বিদায় নিতে হয়েছে এবিজির মতো সংস্থাকে। তবে আইটি শিল্পকে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দিতে নিসন্দেহে উদ্যোগী হয়েছেন শিল্পমন্ত্রী। কল্যানী, খড়গপুর, শিলিগুড়ি, দুর্গাপূরে হার্ডওয়্যার ক্লাস্টার তৈরির চেষ্টা সেই উদ্যোগেরই প্রমাণ।
 
শিল্পমন্ত্রীর সেই সক্রিয়তারই আর একটি প্রমাণ হলদিয়া জট কাটানোর উদ্যোগ। যার জেরে নতুন টেন্ডারে অংশ নিতে ইতিমধ্যেই সম্মতি দিয়েছে আইওসি, ওএনজিসির মতো রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংস্থাগুলি। তবুও শিল্পমন্ত্রীর সেই ব্যক্তিগত উদ্যোগ কিন্তু রাজ্যে ইনফোসিসের বড়সড় বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে রীতিমতো ব্যর্থ হয়েছে। রাজ্যে নতুন করে শিল্পস্থাপনে জমিনীতির বাধাও কাটানো যায়নি। যা কিনা আদতে শিল্পমন্ত্রীর কাজকেই আরও কঠিন করে দিয়েছে। তবুও এরপরও বেঙ্গল লিডসের মতো একের পর এক শিল্প সম্মেলন করায় শিল্পমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ নজর কেড়েছে শিল্পমহলের।
 



First Published: Sunday, May 19, 2013 - 22:39


comments powered by Disqus