পুলিসের মধ্যে বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা

Last Updated: Saturday, August 2, 2014 - 07:55
পুলিসের মধ্যে বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা

কলকাতা: পুলিসের মধ্যে বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা।  পরিসংখ্যানটাও বেশ আশঙ্কার। দুহাজার বারো সালে রাজ্যে পুলিস কর্মীর আত্মহত্যার ঘটনা ছিল বারো। দুহাজার তেরোয় একলাফে সেই সংখ্যা দ্বিগুন হয়েছে।  প্রাক্তন পুলিস কর্তা থেকে মনোবীদরা বলছেন, কর্ম ক্ষেত্রের একঘেয়েমি, অস্বাভাবিক চাপ, কাউন্সেলিংয়ের অভাবেই অবসাদের শিকার হয়ে পড়েছন বহু পুলিস কর্মী।

পুলিসের আত্মহত্যার ঘটনায় দেশের তৃতীয় স্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। এমনই তথ্য উঠে এসেছে ন্যাশনাল ক্রাইম ব্যুরোর রেকর্ডে। প্রথম স্থানে রয়েছে মহারাষ্ট্র, এরপরেই রয়েছে তামিলনাড়ু। দুহাজার বারো সালে পার্কস্ট্রিটের এসআই কার্তিক চ্যাটার্জির আত্মহত্যার ঘটনা খবরের শিরোনামে আসে।

এসআই কার্তিক চ্যাটার্জির আত্মহত্যার পেছনে দীর্ঘদিনের অবসাদই প্রধান কারন বলে জানা যায়। দুহাজার বারো সালেই রাজ্যে পুলিসের আত্মহত্যার সংখ্যা ছিল দশ। দুহাজার তেরোয় সেই সংখ্যা বেড়ে হয়  উনতিরিশ। দ্বিগুনেরও বেশি। আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকা এই প্রবনতার কারন কী। কলকাতা পুলিসের প্রাক্তন ডিজি পুসুন মুখার্জির মতে অস্বাভাবিক কাজের চাপ ও অনিশ্চয়তাই অবসাদের অন্যতম কারণ নিচুতলার পুলিস কর্মীদের। যার চরম পরিনতি আত্মহত্যা।

মনোবীদ অনিন্দিতা রায়চৌধুরী বলছেন পুলিস নামের সঙ্গে দুর্নীতি শব্দটাও জড়িয়ে গেছে। অপবাদের এই বোঝা বয়ে বেড়ানোও কোনও কোনও ক্ষেত্রে খুব কঠিন হয়ে পড়ে। কাউনেসলিংয়ের মধ্যে দিয়েই এই সমস্যার মোকাবিলা সম্ভব।

একই মত মনোবীদ মিনু বুধিয়ারও। দুহাজার বারো সালে দেশে পুলিসের আত্মহত্যার সংখ্যা ছিল একশ ছিয়ানব্বই। দুহাজার তেরোয় সেই সংখ্যা বেড়ে হয় দুশো বাইশ। অস্বাভাবিক কাজের চাপ, সমাজের থেকে বিচ্ছিন্ন এক পরিচিতি নিয়ে বেঁচে থাকা, কর্মক্ষেত্রে অস্থিরতা,রক্ষকই ভক্ষক এরকম চলতি বেশকিছু পেশাগত অপবাদ বয়ে  বেড়ানোর যন্ত্রণাই ক্রমশ অবসাদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে পুলিস কর্মীদের।

 



First Published: Saturday, August 2, 2014 - 07:55


comments powered by Disqus