সহসভাপতি রাহুল, দল ফের ক্ষমতায় এলে প্রধানমন্ত্রী কি না চলছে জল্পনা

Update: January 20, 2013 08:53 IST

এতদিন ছিলেন অঘোষিত নাম্বার টু। এ বার আনুষ্ঠানিকভাবে দলের দ্বিতীয় নেতা হিসাবে ঘোষণা করা হল তাঁর নাম। কংগ্রেস সহ-সভাপতির দায়িত্ব নিলেন রাহুল গান্ধী। দুহাজার চোদ্দোয় কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে রাহুল গান্ধীই কি প্রধানমন্ত্রী? দলের সহ-সভাপতি পদে সোনিয়া পুত্রের অভিষেকের পর জোরালো হয়েছে জল্পনা।

আর্থিক সংস্কারের সঙ্গে আম-আদমির মন জয়ে সরকারি প্রকল্পই হোক বা দলে-সরকারে তরুণ প্রজন্মের হাতে আরও বেশি দায়িত্ব তুলে দেওয়া। গত কয়েক বছরে নানা ভূমিকায় সক্রিয় রাহুল গান্ধী। জনবিরোধী সিদ্ধান্তের অভিযোগে যখন জেরবার দ্বিতীয় ইউপিএ সরকার, তখন কংগ্রেস নেতারা সযত্নে সোনিয়া পুত্রকে দেশের যুবসমাজের প্রতীক হিসাবে তুলে ধরতে দীর্ঘদিন ধরেই মরিয়া।

শনিবার জয়পুরে দলের চিন্তন শিবিরে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে তাই রাহুলের নাম দলের সহসভাপতি পদে সর্বসম্মত ভাবে গৃহীত হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর দলীয় নেতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, কংগ্রেসের মতো বৃহত একটা দলে তাঁর অভিজ্ঞতা অসাধারণ। কংগ্রেসের ক্ষমতা রয়েছে এই দেশকে পাল্টে দেওয়ার।

রাজনৈতিক মহলের ধারণা, কংগ্রেসের পরিকল্পিত চিত্রনাট্য অনুযায়ী এখন দলের সহ-সভাপতি পদে আসীন রাহুল গান্ধী। লোকসভা ভোটের আগে তাঁর এই আনুষ্ঠানিক উত্থানে নতুন করে শুরু হয়েছে জল্পনা। তবে কি তৃতীয় ইউপিএ সরকার গঠিত হলে রাহুলই হবেন তাঁর নেতা? যদিও, কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব এখনই বিষয়টি খোলসা করতে নারাজ।

এআইসিসি-র সাধারণ সম্পাদকেরা এখন থেকে রাহুল গান্ধীর কাছেই তাঁদের রিপোর্ট জমা দেবেন।
সোনিয়া পুত্র ইতিমধ্যেই দলের নির্বাচনী সমন্বয় কমিটির দায়িত্বে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রীও একাধিক জায়গায় বারবার দেশ চালাতে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। আর টিম রাহুলও জানিয়ে দিচ্ছে সোনিয়া পুত্রের নেতৃত্বেই কাজ করতে চায় তারা।

রাজনৈতিক মহলের মত, সোনিয়া গান্ধী নিজে থেকে পুত্রের প্রধানমন্ত্রিত্ব নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চান না। বরং তিনি দেখাতে চান, দলের নেতা-কর্মীদের ইচ্ছাতেই সর্বোচ্চ পদে উঠে আসছেন রাহুল।

প্রচারের দায়িত্ব দেওয়া হলেও প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নরেন্দ্র মোদীকে তুলে ধরার সাহস এখনও দেখায়নি বিজেপি। রাহুল গান্ধীও এখনও পর্যন্ত খাতায়-কলমে কংগ্রেসের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নন। কিন্তু প্রশ্নটা উঠছেই। দু হাজার চোদ্দোয় কি তবে রাহুল-মোদী দ্বৈরথ ? বিজেপি নেতা রাজীব প্রতাপ রুডি এই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেলেও সরব হয়েছেন রাহুল গান্ধীর সমালোচনায়। 

বিহার, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাটে কংগ্রেসের শোচনীয় পরাজয়ের দায়ভার রাহুল গান্ধীর কাঁধেও। পরিস্থিতির চাপে একলা চলো নীতি ছেড়ে জোটের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করতে হচ্ছে দলের নতুন সহ-সভাপতিকে। লোকসভা ভোটের আগে প্রতিষ্ঠানবিরোধিতার সামনে কংগ্রেস। শরিকদের অনেকেই ইউপিএ ছেড়ে গেছে। নতুন বন্ধু খুঁজে বের করার পাশাপাশি যে সব রাজ্যে কংগ্রেস দুর্বল সে খানে দলকে টেনে তোলার দায়িত্বও রাহুল গান্ধীর হাতে। তাই প্রধানমন্ত্রিত্ব নিয়ে জল্পনার মধ্যেই আগামিদিনে আরও বড় চ্যালেঞ্জের সামনে তিনি।







Post Your Comment

Total Comments:1

রাহুল পারবে কি? কোনো সাফল্য তো দেখাতে পারে নি। বদলে প্রিয়াঙ্কা কে দিলে ভালো হত।

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।