রেল বলছে, টেটের দিন আবেদনই করেনি রাজ্য সরকার

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অব্যবস্থার জন্য রেলকেই কাঠগড়ায় তুলেছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ সভাপতি। পরিবহণমন্ত্রী মদন মিত্রও দোষারোপ করেছিলেন রেলকে। রাজ্য সরকারকে চিঠি লিখে এবার সেই অভিযোগেরই জবাব দিল রেল। পাল্টা অভিযোগ তুলল রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে। রেল বোর্ডের দাবি, পরীক্ষার ব্যাপারে তাদের সঙ্গে কোনওরকম যোগাযোগই করেনি সরকার।

Updated: Apr 5, 2013, 05:25 PM IST

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অব্যবস্থার জন্য রেলকেই কাঠগড়ায় তুলেছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ সভাপতি। পরিবহণমন্ত্রী মদন মিত্রও দোষারোপ করেছিলেন রেলকে। রাজ্য সরকারকে চিঠি লিখে এবার সেই অভিযোগেরই জবাব দিল রেল। পাল্টা অভিযোগ তুলল রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে। রেল বোর্ডের দাবি, পরীক্ষার ব্যাপারে তাদের সঙ্গে কোনওরকম যোগাযোগই করেনি সরকার।
গত ৩১ মার্চ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা দিতে গিয়ে চরম হয়রানির শিকার হন পরীক্ষার্থীরা। কার্যত বাদুরঝোলা হয়ে পৌঁছতে হয় পরীক্ষাকেন্দ্রে। অনেকে আবার শেষমেষ পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতেই পারেননি। অব্যবস্থার জন্য, সে দিন রেলের দিকেই আঙুল তুলেছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ সভাপতি। রেলের দিকে আঙুল তুলেছিলেন পরিবহণ মন্ত্রী মদন মিত্রও।
 
সেদিনও রেলের তরফে সব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার আরও কড়া ভাষায় তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাব দিল রেল বোর্ড। রাজ্য সরকারের দিকেই পাল্টা আঙুল তুলল তারা। রেলবোর্ডের অভিযোগ, এতবড় একটা পরীক্ষার জন্য রেলের তরফে কী ধরনের সাহায্য প্রয়োজন তা আগাম তাদের জানায়নি সরকার। নিয়ম হল, এই ধরনের ক্ষেত্রে অন্তত একমাস আগে রেলকে জানাতে হয়, যাতে সুষ্ঠুভাবে ব্যবস্থা করতে পারে রেল। অভিযোগ, একমাস তো দূর অস্ত, পরীক্ষার কথা রেলকে জানানোরই প্রয়োজন মনে করেনি রাজ্য সরকার।
 
রেল বোর্ডের দাবি, জানানো না হলেও স্বতঃপ্রণোদিত হয়েই তারা বেশ কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। রবিবার ছুটির দিনে ২৫ শতাংশ ট্রেন বাতিল থাকে। একত্রিশে মার্চ অন্যান্য দিনের মতোই সব ট্রেন চলেছে। কোনও ট্রেন বাতিল করা হয়নি। ট্রেন যাতে সঠিক সময়ে চলাচল করে, সেজন্য সব ধরনের জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। যে সমস্ত ট্রেন গ্যালোপিং থাকে পরীক্ষার কথা ভেবে সেগুলোকে সব স্টেশনে থামানো হয়েছিল। এমনকি দূরপাল্লার ট্রেনও বহু জায়গায় অতিরিক্ত স্টেশনে থেমেছে। রবিবার দুটোর পরিবর্তে ১১ থেকে চালানো হয়েছিল মেট্রো রেলও।
 
প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি এখন আদালতের বিচারাধীন। এমন একটা সময়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে পাল্টা তোপ দেগে রেলের এই চিঠি, গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।