মুখ্যমন্ত্রীর বিরোধিতা সত্ত্বেও নভেম্বরে আসছে সেট টপ বক্স

Last Updated: Tuesday, October 30, 2012 - 17:16

কাল মধ্যরাতের পর থেকে কলকাতা সহ দেশের চার মেট্রো শহরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে টিভির অ্যানালগ পরিষেবা। পয়লা নভেম্বর থেকে ট্রাইয়ের নির্দেশে শুধুমাত্র ডিজিটাল বক্স বা ডিটিএইচ-এর মাধ্যমে দেখা যাবে ফ্রি টু এয়ার বা পে চ্যানেল। উন্নত প্রযুক্তিতে ঝকঝকে ছবি ও স্পষ্ট আওয়াজে নতুন টিভি বিনোদনে শহরবাসীকে সন্তুষ্ট করতে তৈরি পরিষেবা প্রদানকারীরা। ডিজিট্যাল পরিষেবা চালুর বিরোধিতায় আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ মহাকরণে তিনি বলেন, জোর করে সেট টপ বক্স কিনতে বাধ্য করছে কেন্দ্র। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত মানবে না রাজ্য সরকার।
কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের নির্দেশে বুধবার মধ্যরাতের পর দেশের চার মেট্রো শহরে অ্যানালগ পরিষেবা বন্ধ হতে চলেছে। শুধুমাত্র ডিজিট্যাল পদ্ধতিতেই ওই সময়ের পর থেকে টিভির পর্দায় বিভিন্ন ফ্রি টু এয়ার ও পে চ্যানেল দেখতে পাবেন কলকাতা মেট্রোপলিটান এলাকার ৩৩ লক্ষ টেলিভিশন গ্রাহক। এগুলি দেখার জন্য তাদের বাধ্যতামূলকভাবে নিতে হবে একটি সেট টপ বক্স। মূলত তিন ধরণের সেট টপ বক্স আপাতত বাজারে উপলব্ধ। ডিজিটাল বক্স, হাই ডেফিনিশন বক্স ও ডিটিএইচ। এরমধ্যে প্রথম দুটির ক্ষেত্রে আপনার বাড়িতে টিভি চ্যানেলগুলি পৌঁছবে স্থানীয় কেবল অপারেটরের মাধ্যমে। তৃতীয় ক্ষেত্রে অর্থাত ডিটিএইচ-এ সার্ভিস প্রোভাইডার গ্রাহকের বাড়িতে ডিশ অ্যান্টেনা বসিয়ে বক্সের মাধ্যমে পছন্দসই চ্যানেল পৌঁছে দেবে টিভি সেটে।  
এই পরিষেবার যাবতীয় দায়িত্ব কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অফ ইন্ডিয়া বা ট্রাইকে। নোডাল এজেন্সি হিসেবে কাজ করছে ট্রাই। এর আগে পয়লা জুলাই বাধ্যতামূলক ডিজিটাল পরিষেবার ডেডলাইন ধার্য করেছিল ট্রাই। পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাডু সরকারের আপত্তিতে তা পিছিয়ে পয়লা নভেম্বর করা হয়। প্রশাসনের তরফে আপত্তির কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল, বেশিরভাগ গ্রাহকের কাছে এখনও সেট টপ বক্স পৌঁছয়নি। এই অবস্থায় হঠাত ব্ল্যাকআউট হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলানো কঠিন। বাস্তব পরিস্থিতি কিন্তু বলছে, ডেডলাইন পিছিয়ে যাওয়ায় বেশিরভাগ গ্রাহকই সেট টপ বক্স কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েও শেষ মুহুর্তে পিছিয়ে আসেন। ফলে মঙ্গলবার পর্যন্ত কলকাতা মেট্রোপলিটান এরিয়া-র ৩৩ লক্ষ গ্রাহকের মধ্যে যে কোনও ধরণের সেট টপ বক্স নিয়েছে এমন গ্রাহকের সংখ্যা মাত্র ১৫ লক্ষ। নেননি এমন গ্রাহক ১৮ লক্ষ।
কেবল পরিষেবা মূলত তিনভাগে বিভক্ত। একদম শীর্ষে ব্রডকাস্টার বা চ্যানেল কর্তৃপক্ষ। তার নিচে মাল্টি সার্ভিস অপারেটর বা এমএসও। তার নিয়ে স্থানীয় কেবল অপারেটর। বেআইনী কেবল অপারেটররা নতুন ব্যবস্থায় কল্কে পাবেননা। তাই তাদের অনিচ্ছা ঘিরেই সমস্যা দানা বাঁধছে বেশি। মূলত কোন চ্যানেল পিছু তারা কত টাকা পাবে, তা নিয়ে ট্রাইয়ের নির্দেশ নেই বলে কেবল অপারেটরদের দাবি। যদিও ট্রাই স্পষ্ট জানাচ্ছে ফ্রি টু এয়ার চ্যানেলের ক্ষেত্রে গ্রাহকপিছু মাসিক শুল্কের ৪৫ শতাংশ এবং পে চ্যানেলের ক্ষেত্রে ৩৫ শতাংশ লভ্যাংশ পাবেন অপারেটররা। তাদের বিরুদ্ধে গ্রাহকরা বক্সের ইচ্ছামত দাম নেবারও অভিযোগ তুলেছেন।
যদিও এমএসও-রা বলছেন, এভাবে বাড়তি দাম নেওয়া সম্পুর্ণ বেআইনী।
এই মূহুর্তে সেট টপ বক্সের সর্বোচ্চ দাম ৯৯৯ টাকা। হাই ডেফিনিশন বক্সের ক্ষেত্রে ২৫০০ টাকা। এবার সাধ্যমত বক্স নিয়ে ডিজিটাল কোয়ালিটির পছন্দের চ্যানেল দেখা এবং শুধুমাত্র পছন্দের চ্যানেলের জন্যই টাকা দেওয়ার স্বাধীনতা গ্রাহকের হাতের মুঠোয়।



First Published: Tuesday, October 30, 2012 - 17:16


comments powered by Disqus