বিদ্রোহী দমনে তৃণমূলের এসএমএস ফরমান

Update: December 4, 2012 09:31 IST

দলের মধ্যে বিক্ষোভ-বিদ্রোহ ক্রমশ মাথাচাড়া দেওয়ায় এবার লাগাম পরানোর কাজ শুরু করল তৃণমূল নেতৃত্ব। আগাম অনুমতি ছাড়া বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমের কোনও প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না দলীয় নেতারা। এমনই ফরমান জারি করল তৃণমূল কংগ্রেস। এবিষয়ে অনুমতির জন্য পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। এসএমএসের মাধ্যমে দলের শীর্ষনেতাদের কাছে এই নির্দেশ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

সরকারের বয়স মাত্র দেড় বছর। কিন্তু এরমধ্যেই বিভিন্ন নেতার প্রকাশ্য বিদ্রোহে প্রবল অস্বস্তিতে শাসক দল তৃণমূল। ঘরে-বাইরে সেই অস্বস্তি ক্রমশ বাড়ছে। দলের বিরুদ্ধে প্রথম মুখ খোলেন সাংসদ কবীর সুমন। কী অভিযোগ ছিল তাঁর? অভিযোগ ছিল দলের লোকেদের তোলাবাজির ঠেলায় সাংসদ কোটায় উন্নয়নের কাজ করতে তাঁর প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে যাচ্ছে। তারপর সেই তালিকায় নাম ওঠে আরেক সাংসদ সুচারু হালদারের। রাণাঘাটের সাংসদও দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দেন। সিঙ্গুরের মাস্টারমশাই রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য মুখ খোলার পর বেশ কোনঠাসা মুখ্যমন্ত্রী সহ তাঁর সরকার এবং দল। কী অভিযোগ করেছেন রবীন্দ্রবাবু? দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলাবাজির। একধাপ এগিয়ে বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব জেনেও তোলাবাজ নেতাদেরই প্রশয় দিচ্ছেন। প্রায় একই কথা প্রযোজ্য শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও। তৃণমূলের শুরুর দিনগুলি থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থেকেছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তাঁর মত একনিষ্ঠ দলীয় কর্মীকেও হেনস্থা হতে হয়েছে দলের আর এক নেতার বাহিনীর হাতে। আর সবচেয়ে আশ্চর্যের ঘটনা হল শোভনদেবের মত নেতাকে দলের লোকেরা আক্রমণ করার পরও কোনও পদক্ষেপ নেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে আলোচনারও প্রয়োজন অনুভব করেননি।

তৃণমূলনেত্রীর প্রবল জনপ্রিয়তার সামনে বিশেষ দাগ কাটতে পারেনি কবীর সুমন বা সুচার হালদারের ক্ষোভ। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য বা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় মুখ খোলায় তা তৃণমূলে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। দলের মধ্যেই যে বিদ্রোহ দানা বাঁধছে তা বিলক্ষণ বুঝতে পারছেন তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। বিশেষত দলের বিভিন্ন নেতা সংবাদ মাধ্যমে মুখ খোলায়, জনমানসে তার বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে। সেকারণে এবার দলের নেতা- বিধায়কদের মুখে লাগাম পড়ানোর কাজ শুরু করল তৃণমূল কংগ্রেস। এবার থেকে আগাম অনুমতি ছাড়া বৈদ্যুতিন সংবাদ মাধ্যমের কোনও প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না দলীয় নেতারা। সোমবার এসএমএসের মাধ্যমে দলের শীর্ষনেতা ও অধিকাংশ বিধায়কের কাছে এই ফরমান জারি করা হয়। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নামে পাঠানো ওই এসএমএসে বলা হয়েছে, দলের পরামর্শ অনুযায়ী আপনাদের অবগত করা হচ্ছে যে দলের ছাড়পত্র না নিয়ে কোনও বৈদ্যুতিন সংবাদ মাধ্যমে কথা বলবেন না। এ বিষয়ে ছাড়পত্র পেতে হলে আপনারা শ্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। অথবা তাঁকে ফোনে বার্তা পাঠাতে পারেন।

রাজনৈতিক মহলের ধারনা, এই ফরমান জারির মধ্য দিয়ে দলের শীর্ষনেতা-বিধায়কদের সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলা থেকে বিরত করা যাবে। একইসঙ্গে কেউ এই ফরমান অগ্রাহ্য করে সংবাদমাধ্যমে দলের বিরুদ্ধে তোপ দাগলে, তাঁর বিরুদ্ধে দল বিরোধী কাজেরও অভিযোগ আনা যাবে।








Post Your Comment

Total Comments:2

Susil soma kothata amar kache khub hassokor lage rn haldar baau.koekta nogno chobi ake ba omil kobita lakhe ba besuro gan gae ba 1 fourth bf cinema korelei to ajkal buddhijibi tokma joge.ki r bolbo ei sob sushil der nie.mombati mone hoy ekhon r bazar a nei.oder r ki dos bolun!

KOTO JONKE LAGAM PORABEN? APNADER MOTON KICHU ``YES BOSS`` CHARA SOKOLAI DOL BIRODHI KATHABARTTA BOLCHEN.DEKCHENNA MOMBATIWALA SUSIL SAMAJ AAJ KOTHAI?

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।