বিদ্রোহী দমনে তৃণমূলের এসএমএস ফরমান

বিদ্রোহী দমনে তৃণমূলের এসএমএস ফরমান

বিদ্রোহী দমনে তৃণমূলের এসএমএস ফরমানদলের মধ্যে বিক্ষোভ-বিদ্রোহ ক্রমশ মাথাচাড়া দেওয়ায় এবার লাগাম পরানোর কাজ শুরু করল তৃণমূল নেতৃত্ব। আগাম অনুমতি ছাড়া বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমের কোনও প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না দলীয় নেতারা। এমনই ফরমান জারি করল তৃণমূল কংগ্রেস। এবিষয়ে অনুমতির জন্য পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। এসএমএসের মাধ্যমে দলের শীর্ষনেতাদের কাছে এই নির্দেশ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

সরকারের বয়স মাত্র দেড় বছর। কিন্তু এরমধ্যেই বিভিন্ন নেতার প্রকাশ্য বিদ্রোহে প্রবল অস্বস্তিতে শাসক দল তৃণমূল। ঘরে-বাইরে সেই অস্বস্তি ক্রমশ বাড়ছে। দলের বিরুদ্ধে প্রথম মুখ খোলেন সাংসদ কবীর সুমন। কী অভিযোগ ছিল তাঁর? অভিযোগ ছিল দলের লোকেদের তোলাবাজির ঠেলায় সাংসদ কোটায় উন্নয়নের কাজ করতে তাঁর প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে যাচ্ছে। তারপর সেই তালিকায় নাম ওঠে আরেক সাংসদ সুচারু হালদারের। রাণাঘাটের সাংসদও দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দেন। সিঙ্গুরের মাস্টারমশাই রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য মুখ খোলার পর বেশ কোনঠাসা মুখ্যমন্ত্রী সহ তাঁর সরকার এবং দল। কী অভিযোগ করেছেন রবীন্দ্রবাবু? দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলাবাজির। একধাপ এগিয়ে বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব জেনেও তোলাবাজ নেতাদেরই প্রশয় দিচ্ছেন। প্রায় একই কথা প্রযোজ্য শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও। তৃণমূলের শুরুর দিনগুলি থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থেকেছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তাঁর মত একনিষ্ঠ দলীয় কর্মীকেও হেনস্থা হতে হয়েছে দলের আর এক নেতার বাহিনীর হাতে। আর সবচেয়ে আশ্চর্যের ঘটনা হল শোভনদেবের মত নেতাকে দলের লোকেরা আক্রমণ করার পরও কোনও পদক্ষেপ নেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে আলোচনারও প্রয়োজন অনুভব করেননি।

তৃণমূলনেত্রীর প্রবল জনপ্রিয়তার সামনে বিশেষ দাগ কাটতে পারেনি কবীর সুমন বা সুচার হালদারের ক্ষোভ। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য বা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় মুখ খোলায় তা তৃণমূলে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। দলের মধ্যেই যে বিদ্রোহ দানা বাঁধছে তা বিলক্ষণ বুঝতে পারছেন তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। বিশেষত দলের বিভিন্ন নেতা সংবাদ মাধ্যমে মুখ খোলায়, জনমানসে তার বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে। সেকারণে এবার দলের নেতা- বিধায়কদের মুখে লাগাম পড়ানোর কাজ শুরু করল তৃণমূল কংগ্রেস। এবার থেকে আগাম অনুমতি ছাড়া বৈদ্যুতিন সংবাদ মাধ্যমের কোনও প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না দলীয় নেতারা। সোমবার এসএমএসের মাধ্যমে দলের শীর্ষনেতা ও অধিকাংশ বিধায়কের কাছে এই ফরমান জারি করা হয়। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নামে পাঠানো ওই এসএমএসে বলা হয়েছে, দলের পরামর্শ অনুযায়ী আপনাদের অবগত করা হচ্ছে যে দলের ছাড়পত্র না নিয়ে কোনও বৈদ্যুতিন সংবাদ মাধ্যমে কথা বলবেন না। এ বিষয়ে ছাড়পত্র পেতে হলে আপনারা শ্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। অথবা তাঁকে ফোনে বার্তা পাঠাতে পারেন।

রাজনৈতিক মহলের ধারনা, এই ফরমান জারির মধ্য দিয়ে দলের শীর্ষনেতা-বিধায়কদের সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলা থেকে বিরত করা যাবে। একইসঙ্গে কেউ এই ফরমান অগ্রাহ্য করে সংবাদমাধ্যমে দলের বিরুদ্ধে তোপ দাগলে, তাঁর বিরুদ্ধে দল বিরোধী কাজেরও অভিযোগ আনা যাবে।








First Published: Tuesday, December 04, 2012, 09:42


comments powered by Disqus