ফেস্টিভ্যাল না 'সার্কাস', বিতর্কে চলচ্চিত্র উৎসব

কলকাতা চলচ্চিত্র উত্সব কর্তৃপক্ষর বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। বিশিষ্ট এই অভিনেতার মতে, কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সব তার কৌলীন্য হারাচ্ছে। রবিবার সিনে সেন্ট্রাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সরকারে পরিবর্তন হতেই পারে। তার জন্য চলচ্চিত্র উত্‍সবের চরিত্র বদলে যাওয়াটা তিনি মেনে নিতে পারছেন না। তাঁর মতে এটা কোনও 'সার্কাস' নয়। উত্সবের একটা গাম্ভীর্য রয়েছে।

Updated: Nov 11, 2012, 09:35 PM IST

কলকাতা চলচ্চিত্র উত্সব কর্তৃপক্ষর বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। বিশিষ্ট এই অভিনেতার মতে, কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সব তার কৌলীন্য হারাচ্ছে। রবিবার সিনে সেন্ট্রাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সরকারে পরিবর্তন হতেই পারে। তার জন্য চলচ্চিত্র উত্‍সবের চরিত্র বদলে যাওয়াটা তিনি মেনে নিতে পারছেন না। তাঁর মতে এটা কোনও 'সার্কাস' নয়। উত্সবের একটা গাম্ভীর্য রয়েছে। 
কলকাতা চলচ্চিত্র উত্‍সব সম্পর্কে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্যের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেল চলচ্চিত্র মহলে। চলচ্চিত্র উত্‍সবে বলিউডের তারকাদের সমাগম মেনে নিতে বাঁধা নেই অনেকেরই। অনেকে আবার মুখ খুললেন উত্‍সবে রাজ্যের প্রবীন চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বদের অনুপস্থিতি নিয়ে।
কলকাতা চলচ্চিত্র উত্‍সব সম্পর্কে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্যকেই সমর্থন করলেন চিত্র পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত। তাঁর বক্তব্য, যেভাবে চলচ্চিত্র উত্‍সবে স্বার্থান্বেষী মানুষের ভিড় দেখা যাচ্ছে, তাতে এই উত্‍সব একটা ক্যারিকেচারে পরিণত হয়েছে।
সৌমিত্রবাবুর এই অভিযোগের সপক্ষে মুখ খোলেন মৃণাল সেনও। তিনি বলেন, কলকাতা চলচ্চিত্র উত্সবের উদ্বোধনের দিন নেতাজি ইনডোরে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে যা উত্সবের কৌলীন্যর সঙ্গে খাপ খায়না। তবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অমিতাভ বচ্চনের বক্তৃতার প্রশংসা করেছেন তিনি। অভিনেতা  অভিনেতা বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূল সরকারের আমলে এর থেকে বেশি কিছু প্রত্যাশিত নয়।
নন্দনে চলচ্চিত্র উত্সবের আবহ একেবারে অন্য ধরনের ছিল। নেতাজি ইন্ডোরে দর্শক সংখ্যা অনেক। কিন্তু সেই আমেজটা নেই। কলকাতা চলচ্চিত্র উত্সবের চরিত্র বদল যাওয়া প্রসঙ্গে এমনই প্রতিক্রিয়া জানালেন পরিচালক অনীক দত্ত।
কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবের প্রধান মুখ কখনোই অমিতাভ বচ্চন বা শাহরুখ খান হওয়া উচিত নয়। এমনই মত অভিনেতা অরিন্দম শীলের। তাঁর যুক্তি, চলচ্চিত্র উত্সবে সাধারণত ফিল্মের গুণগত মানের ওপরেই জোর দেওয়া হয়। বাণিজ্যিক বিষয়টি সেখানে গৌণ।
তবে বর্ষীয়ান এই অভিনেতার সঙ্গে সহমত হননি টালিগঞ্জের অনেক অভিনেতা, কলাকুশলীরাই। নাট্যব্যক্তিত্ব কৌশিক সেন বলেন, "ঐতিহ্য, গাম্ভীর্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের উপর নির্ভর করে না।" তাঁর দাবি, নেতাজি ইন্ডোরে বিপুল জনসমাগম হলেও উচ্চমানের ছবি দেখতে যান কিছু মুষ্ঠিমেয় দর্শকরাই, যাঁরা আগেও যেতেন। তবে নাম না করে তিনি এও বলেন, "আগে যিনি মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তাঁর বিশ্ব চলচ্চিত্র সম্পর্কে 'সম্যক ধারণা' ছিল। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর সেই নিবিড় চর্চা নেই।"
পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তী অবশ্য মুখ্যমন্ত্রীর চলচ্চিত্র উৎসবকে 'আম আদমি'র হাতের মুঠোয় নামিয়ে আনার প্রচেষ্টার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। তাঁর বক্তব্য আগে সাধারণ মানুষ এই ফেস্টিভ্যাল দেখতে জানতেন না। এখন এই উৎসব সর্বজনীন হয়েছে।
তবে সরকারি উদ্যোগে চলচ্চিত্র উৎসবে বাণিজ্যিক সাফল্যর তুলনায় গুণগত মানকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত বলেই মনে করেছেন একাংশ। পর পর দু'বছরে ফিল্ম ফেস্টিভ্যালকে সর্বজনীন করার উদ্যোগকে স্বাগত জানায়নি বুদ্ধিজীবী মহলের একটা বড় অংশ।