রাজ্য এক নম্বর: কী বলছে সমীক্ষা?

সরকারের কাজের নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ একনম্বরে। দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সত্যিই কি তাই? মুখ্যমন্ত্রীর দাবি কি মিলছে, বাস্তবের সঙ্গে? একটি রিপোর্ট।

Updated: Apr 8, 2013, 09:21 PM IST

সরকারের কাজের নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ একনম্বরে। দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সত্যিই কি তাই? মুখ্যমন্ত্রীর দাবি কি মিলছে, বাস্তবের সঙ্গে? একটি রিপোর্ট।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, যোগ্য রাজ্য হিসেবেই কেন্দ্রের কাছে দরবার করবেন তিনি। কারণ, কাজের নিরিখে রাজ্যকে এক নম্বরে নিয়ে গিয়েছে তাঁর সরকার। যদিও, রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতির বাস্তব ছবিটার সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর দাবির সুর মিলছে না। প্রথমেই আসা যাক শিল্প বিনিয়োগের প্রশ্নে। রাজ্য বিধানসভায় পেশ হওয়া আর্থিক সমীক্ষার রিপোর্টেই প্রকাশ গত তিন বছরে ক্রমশ কমেছে লগ্নির পরিমাণ।
দুহাজার দশ সালে তিনশো বাইশটি রূপায়িত প্রকল্পে লগ্নির পরিমাণ ছিল ১৫ হাজার ৫২ কোটি টাকা।
 
পরিবর্তনের বছর ২০১১ সালে রূপায়িত প্রকল্পের সংখ্যা কমে হয় ২৮। লগ্নি কমে হয় ২ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকার। 
 
২০১২ সালে মাত্র ১২টি রূপায়িত প্রকল্পে ৩১২ কোটি টাকা লগ্নি হয়েছে
ওই একই সময়কালে,  প্রতিবেশী ওড়িশায় লগ্নির পরিমাণ ছিল ১১ লক্ষ ৩০ হাজার কোটি টাকার।

অন্যদিকে কর্মসংস্থান নিয়ে রাজ্য সরকারের দাবির সত্যতাও প্রশ্নের মুখে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র বলেন, শেষ আর্থিক বছরের শেষ ৯ মাসে রাজ্যে ১০ লক্ষ ২৪ হাজার ৫২১ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। যদিও বিধানসভায় লিখিত প্রশ্নের জবাবে শ্রমমন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু বলেন, কাজ পেয়েছেন ৮৯৯ জন 
তবে ঋণ নেওয়ার বিষয়ে আগের থেকে কিছুটা এগিয়েছে রাজ্য। বাড়ছে ঋণের বোঝা।
সরকার পরিবর্তনের সময়ে রাজ্যের মাথায় ছিল দুলক্ষ ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ।
 
বর্তমানে রাজ্যের ঋণের পরিমাণ ২ লক্ষ ২৭ হাজার কোটি টাকার।
 
অর্থাত্ গত ২২ মাসে ২৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয় রাজ্য। যার অর্থ প্রতিমাসে একহাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ নিচ্ছে রাজ্য। প্রশ্নের মুখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও। পুলিসকর্মী খুন থেকে শুরু করে, পুলিস হেফাজতে ছাত্রের মৃত্যু। সাম্প্রতিক অতীতে সবই প্রত্যক্ষ করেছেন রাজ্যবাসী। তবে একটি বিষয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছে পশ্চিমবঙ্গ। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর তথ্যে প্রকাশ,
২০১১ সালে মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধে শীর্ষস্থান দখল করে পশ্চিমবঙ্গ। এ রাজ্যে শ্লীলতাহানির হার জাতীয় হারের প্রায় দ্বিগুণ। মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের ঘটনায় ওই বছর ২৯ হাজারের বেশি মামলা রুজু করা হয়েছিল।