রাজ্য বনাম কমিশন: সংঘাত মেটাতে ভূমিকা নিতে পারেন রাজ্যপাল

পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী আনা প্রতিটি বিষয় নিয়েই চরমে উঠেছে রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশন সংঘাত। এই সংঘাত মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন রাজ্যপাল। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজের সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়ে নির্দেশ দিতে পারেন রাজ্যপাল। তেমন হলে রাজ্যপালের নির্দেশ মেনে নিতে বাধ্য হবে রাজ্য সরকার।

Updated: Mar 24, 2013, 01:27 PM IST

পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী আনা প্রতিটি বিষয় নিয়েই চরমে উঠেছে রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশন সংঘাত। এই সংঘাত মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন রাজ্যপাল। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজের সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়ে নির্দেশ দিতে পারেন রাজ্যপাল। তেমন হলে রাজ্যপালের নির্দেশ মেনে নিতে বাধ্য হবে রাজ্য সরকার।
রাজ্য সরকার একতরফা ভাবে পঞ্চায়েত ভোটের দিন ঘোষণা করে ইতিমধ্যেই চিঠি দিয়েছে কমিশনকে। বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সোমবারই বৈঠকে বসছে কমিশন। ইতিমধ্যেই কমিশন আইনি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও পরামর্শ করেছে । কমিশন সূত্রে জানোনো হয়েছে, সব দিক খতিয়েই দেখে দু একদিনের মধ্যে এবিষয়ে  সিদ্ধান্ত নেবেন তাঁরা। এক্ষেত্রে তিনটি সম্ভাবনার কথা উঠে আসছে।
প্রথম সম্ভাবনা হল, রাজ্য সরকারের ঘোষিত দিনক্ষণ মেনে নিয়ে আপাতত সংঘাতের রাস্তা থেকে সরে আসবে কমিশন।  সেক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠবে এতদিন তাহলে  কমিশন কেন তিন দিনে ভোট করার সিদ্ধান্তে  অনড় ছিল?
দ্বিতীয় সম্ভাবনা হল, রাজ্যের বিরুদ্ধে আইনি পথে যাবে কমিশন। সেক্ষেত্রে আদালত পর্যন্ত গড়াবে কমিশন রাজ্য সংঘাত। যা সময়সাপেক্ষ ও দীর্ঘ প্রক্রিয়া। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠবে আদৌ সঠিক সময় নির্বাচন হবে কীনা। 
তৃতীয় সম্ভাবনা হল, রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়ে ফের একবার, সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বলবে কমিশন। অনুরোধ জানাবে কমিশনের মত মেনে নিয়ে তিন দিনে নির্বাচন করতে।
বিশেষজ্ঞমহলের মতে এই বিতর্ক মেটাতে শেষ পর্যন্ত  গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে রাজ্যপাল এমকে নারায়ণের ভূমিকা । রাজ্য সরকারের সঙ্গে সংঘাত চরমে ওঠার পর থেকে গত একমাস ধরে নিয়মিত রাজ্যপালের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে কমিশন। কমিশন সূত্রে খরব রবিবার রাতে রাজ্যপাল কলকাতায় ফেরার পরে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করবে কমিশন। রাজ্যপাল নির্বাচনের দিন ক্ষণ নিয়ে নির্দেশ দিলে সেক্ষেত্রে কিছুটা হলেও চাপে পড়ে যাবে রাজ্য সরকার। সবমিলিয়ে সময় যত এগোচ্ছে রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা তত বাড়ছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।