মর্গের বাইরে প্রতীক্ষার প্রহর শেষই হচ্ছে না

Update: March 3, 2013 20:37 IST

সূর্যসেন মার্কেটে অগ্নিকাণ্ড, মৃত্যু। তারপর কেটে গেছে চার দিন। মর্গের বাইরে প্রতীক্ষার প্রহর শেষই হচ্ছে না তাহেরপুরের পোদ্দার পরিবারের। বাবার মৃতদেহ মিললেও পরিচয়জটে এখনও মর্গেই আটকে ছেলে রতন পোদ্দারের মৃতদেহ।   

বুধবার টিভিতে দেখেছিলেন সূর্যসেন মার্কেটের জ্বলন্ত ছবি। এই মার্কেটই ছিল নদিয়ার তাহেরপুরের পোদ্দার পরিবারের রুজি রোজগারের কেন্দ্র। এখানেই আলু পিঁয়াজের ব্যবসা করতেন রাধাগোবিন্দ পোদ্দার ও তাঁর ছেলে। তড়িঘড়ি তাহেরপুর থেকে শিয়ালদায় যখন পৌঁছলেন পরিবারের সদস্যরা, ততক্ষণে নিথর হয়ে গেছে  রাধাগোবিন্দ ও রতন পোদ্দারের দেহ।  তারপর থেকে মেডিক্যাল কলেজের মর্গই ঠিকানা পোদ্দার পরিবারের। বহু কষ্টে রাধাগোবিন্দবাবুর মৃতদেহ হাতে পেলেও ঘটনার চারদিন পরও মেলেনি রতন পোদ্দারের দেহ। সোমবার লালবাজারে দেখা করতে বলা হয়েছে পোদ্দার পরিবারের সদস্যদের। 
 
অন্যদিকে পুড়ে যাওয়া সূর্যসেন মার্কেট ঘুরে দেখেন তৃণমূল সাংসদ সোমেন মিত্র। এদিন বেলা বারোটা নাগাদ বাজারে পৌঁছন তিনি। কথা বলেন,  ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। কলকাতার বিভিন্ন মার্কেটের অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা নিয়েও এদিন সংশয় প্রকাশ করেন তৃণমূল সাংসদ। 

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।