আক্রান্ত নিহত পরিবেশবিদ তপন দত্তের ভাগ্নে

Update: November 16, 2012 16:19 IST

আবারও সংবাদ শিরোনামে হাওড়ার পরিবেশকর্মী তপন দত্ত হত্যা মামলা। এবার আক্রান্ত হলেন নিহত পরিবেশকর্মী তপন দত্তের ভাগ্নে পিন্টু ধর। বৃহস্পতিবার রাত ১০.৩০ নাগাদ বন্ধুদের সঙ্গে ঠাকুর দেখে ফিরছিলেন পিন্টু। সে সময় বালি লেভেল ক্রসিংয়ের সামনে তিনজন দুষ্কৃতী চপার দিয়ে আঘাত করে তাকে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাওড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি পিন্টু। বেশ কয়েকদিন ধরেই  তাঁকে তপন দত্ত খুন সংক্রান্ত মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেছেন তপন দত্তের স্ত্রীর। তার জেরেই এই হামলার ঘটনা বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। গুরুতর জখম অবস্থায় পিন্টুকে প্রথমে বেলুড় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। ঠিক কী কারণে এই হামলার ঘটনা তা তদন্ত করে দেখছেন গোয়েন্দারা।
 

বালি এলাকায় একের পর এক জলাভূমি ভরাটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তুলেছিলেন পরিবেশবিদ ও তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তপন দত্ত। বিষয়টি তৃণমূল কংগ্রেসের ওপরের স্তরে জানিয়েছিলেন তপনবাবু। পুলিস প্রশাসনেরও দ্বারস্থ হন। তারপরই খুন হতে হয় তপন দত্তকে। দুহাজার এগারোর ছয় মে বালি লেভেল ক্রসিংয়ে দুষ্কৃতীরা গুলি করে হত্যা করে তপন দত্তকে। রাজ্যজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। তদন্ত শুরু করে সিআইডি। সেই ঘটনায় সিআইডি যে চার্জশিট পেশ করে তাতে নাম ছিল মন্ত্রী অরূপ রায়ের। খুনের ঘটনায় অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের বিষয়টির উল্লেখ ছিল। অস্বস্তিতে পড়ে সরকার। ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরই তড়িঘড়ি সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে মন্ত্রীর জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন সিআইডির সর্ব্বোচ্চ কর্তা। নতুন করে জমা দেওয়া হয় সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট। যাতে বাদ যায় মন্ত্রী অরূপ রায়ের নাম। আর এই ঘটনায় যিনি তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন, সিআইডির সেই সাব ইনেস্পেক্টর সন্দীপ গঙ্গোপাধ্যায় বদলি হন কোচবিহারে। এরপর হামলা হয় তপন দত্তের ভাগ্নের উপর। ফলে আবারও সংবাদ শিরোনামে উঠে এল তপন দত্ত হত্যা মামলা।
 
 





Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।