শোকের সঙ্গে মিশে গেল প্রতিবাদের সুর

Last Updated: Monday, February 18, 2013 - 09:25

বেনজির স্মরণ। মোমবাতির আলোয় নিহত সহকর্মী তাপস চৌধুরীকে স্মরণ করলেন কলকাতা পুলিসের কর্মীরা। বহু প্রতিবাদ আন্দোলনের সাক্ষী মেট্রো চ্যানেলের স্মরণসভায় অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের সঙ্গে হাজির ছিলেন কর্মরত বহু পুলিস কর্মীও। কলকাতা পুলিসের ইতিহাসে এই প্রথমবার।
সহকর্মী তাপস চৌধুরী খুনের ঘটনায় বারো জনকে গ্রেফতার করার পরও কলকাতা পুলিসের ওপর ভরসা রাখেননি মুখ্যমন্ত্রী। সরিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁদের নেতাকে। কেড়ে নেওয়া হয়েছে তদন্তভারও। পুলিসকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমশই বাড়ছে। সেই ক্ষোভ আর শোকের সাক্ষী রইল রবিবারের মেট্রো চ্যানেল। নজিরবিহীনভাবে সহকর্মী তাপস চৌধুরীর স্মরণসভায় আয়োজন করেছিলেন অবসরপ্রাপ্ত পুলিস কর্মীরা। প্রাক্তনদের সঙ্গে শোকে সামিল বহু কর্মরত পুলিসকর্মীও। মোমের আলোয় সহকর্মীকে স্মরণ করলেন, সমবেদনা জানালেন তাপস চৌধুরীর পরিবার পরিজনদের ।
পোষাকে রয়েছেন। তাই এগোতে পারলেন না অনেকেই। এগোতে পারলেন না রুজিরুটির স্বার্থে। সহকর্মীর শোক বিহ্বল করলেও, বাহিনীর শৃঙ্খলায় হাতে-পায়ে-মনে বেড়ি। তাই থাকতে হল নির্লিপ্ত। কিন্তু চোখে মুখে ঝরে পড়ে সমবেদনা। একটু দূর থেকেই তাপস চৌধুরীকে স্মরণ করলেন কর্মরত পুলিস আধিকারিকরা। কেউ বা একটু এগিয়ে এলেন।   
বন্দুকের ব্যবহার অজানা নয় কারোরই কাছে। জানেন, কখন, কেন আর কীভাবে গুলি চালাতে হয়। তবু দেখেছেন, নিরস্ত্র সহকর্মীকে লুটিয়ে পড়তে। কেউ চোখের সামনে, কেউ বা টিভির পর্দায়। সে দৃশ্যে বুকের মধ্যে দলা পাকিয়েছে বেদনা, জমাট বেঁধেছে ক্ষোভ। তবু উর্দির শৃঙ্খলায় বন্দি সকলেই। দূর থেকেই সহকর্মীকে শ্রদ্ধা জানালেন। কেউ বা একটু এগিয়ে এলেন। চাকরির তোয়াক্কা না করেই প্রশ্ন তুললেন, বারোই ফেব্রুয়ারি কেন পুলিস ছিল নিরস্ত্র, আর দুষ্কৃতীর হাতে বন্দুক?
পুলিসের চাকরির অলিখিত শর্ত ওঁদের কারোরই অজানা নয়। অজানা অলিগলিতে লুকিয়ে থাকে মৃত্যু। বহুবারই মুখোমুখি হতে হয়। সেই শর্ত মেনে নিয়েছেন ওঁরা। মানতে পারছেন না সেই শর্ত, যা সংবিধানে লেখা নেই। যা ট্রেনিংয়ে শেখানো হয় না।
উর্দির বাধ্যবাধ্যকতা মাথায় রেখেই রবিবার সন্ধেয় মেট্রো চ্যানেলে তাপস চৌধুরীকে শ্রদ্ধা জানিয়ে যান কর্তব্যরত বহু পুলিসকর্মী। তাঁদের অনেকেই ছিলেন সাদা পোশাকে। যাঁরা আসতে পারলেন না তাঁরা একটু দূর থেকেই স্মরণ করলেন। তবে মন থেকে হয়ত দূরে থাকলেন না সহকর্মীর থেকে।
 
 



First Published: Monday, February 18, 2013 - 09:25


comments powered by Disqus