তৃণমূলের ইউ টার্ন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সমর্থন প্রণবকেই

Last Updated: Tuesday, July 17, 2012 - 18:09

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রণব মুখার্জিকেই ভোট দেবে তৃণমূল। নিজের পূর্ব অবস্থান থেকে একশো আশি ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে আজ এই ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার মহাকরণে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে মুখ্যমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি পদে প্রণব মুখার্জিকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছেন। তবে লক্ষ্যনীয় ভাবে তিনি বলেছেন, "এই সমর্থন আমি মন থেকে করছি না। প্রণব মুখার্জিকে সমর্থন করতে আমার কষ্ট হচ্ছে। " মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্যে পরিষ্কার রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করে তাঁকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
কংগ্রেস এবং তৃণমূল দুই সূত্রেরই খবর, এই ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রীর ওপর প্রবল চাপ দেয় কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব। দলের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী, প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং দুজনে বারবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁরা কখনই চাইছিলেন না এই মুহুর্তে, যখন কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন দিকে থেকে কোনঠাসা, ইউপিএ জোটের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের ফাটল ভাঙনের চেহারা নিক। গত একমাস ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর চাপ বাড়াতে সর্বাত্মক আক্রমণের পথে নামে কংগ্রেস হাইকমান্ড। কখনও পি চিদম্বরম, কখনও জয়রাম রমেশ, আইনশৃঙ্খলা থেকে কেন্দ্রেরদেওয়া বরাদ্দ খরচের প্রশ্নে রাজ্যের সমালোচনায় মুখর হোন কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। রাজ্য সরকারের ব্যর্থতার ইস্যু তুলে পথে নামানো হয় প্রদেশ কংগ্রেসকে।এই সাঁড়াশি আক্রমণে চাপে পড়ে যান তৃণমূল নেত্রী। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বুঝতে পারছিলেন, শেষপর্যন্ত প্রণব মুখোপাধ্যায়কে ভোট না দিলে আর্থিক দাবিদাওয়া নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে সমস্ত দরকষাকষির রাস্তা বন্ধ হয়ে যাবে। প্রণব মুখোপাধ্যায়কে সমর্থন করে আর্থিক সাহায্য পেয়েছে সমাজবাদী পার্টি। এবার প্রণব বাবুকে তৃণমূলের সমর্থনের ক্ষেত্রে মুলায়ম সিং যাদবের ফর্মুলাকেই
তৃণমূল কংগ্রেসনেত্রী হাতিয়ার করলেন বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের একাংশের। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, এই সিদ্ধান্তের পর নিশ্চিত ভাবেই কেন্দ্রের থেকে বেশ কিছু প্রকল্পে বড় আর্থিক সাহায্য পেতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সিদ্ধান্তের পিছনে আরও একটি কারণ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের বেশ কিছু সাংসদ এবং বিধায়ক প্রথম থেকেই রাষ্ট্রপতি পদে প্রণব মুখার্জিকে সমর্থনের পক্ষে। যদি শেষপর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটদানে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিতেন তাহলে দলের অন্দরে ক্রস ভোটিং-এর আশঙ্কা ছিল। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে রাজনৈতিক দল হুইপ জারি করতে পারে না। সেক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ যদি প্রণব মুখার্জিকে ভোট দিতেন তাহলে আইনি কোনও পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব ছিল না। ফলে রাজনৈতিক ভাবে চূড়ান্ত অপদস্থ হতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মূলত এই তিনটি কারণকে মাথায় রেখেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই নতিস্বীকার বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।



First Published: Tuesday, July 17, 2012 - 21:41


comments powered by Disqus