ত্রিফলাকাণ্ডে আরও বিতর্কে কলকাতা পুরসভা

ত্রিফলাকাণ্ডে আরও বিতর্কে জড়াল কলকাতা পুরসভা। বিতর্ক তৈরি হল মেয়রের মন্তব্যে। মেয়র জানিয়েছেন,  ত্রিফলা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে  কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা ঠিক হবে  মেয়র পারিষদের বৈঠকে।  প্রশ্ন উঠছে যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, সেই মেয়র বা মেয়র পারিষদ সদস্যরা কীভাবে নিজেরাই নিজেদের বিচার করবেন ? ত্রিফলা আলো নিয়ে শুরু থেকেই দুর্নীতির অভিযোগ কলকাতা পুরসভার বিরুদ্ধে।

Updated: Jan 29, 2013, 08:34 PM IST

ত্রিফলাকাণ্ডে আরও বিতর্কে জড়াল কলকাতা পুরসভা। বিতর্ক তৈরি হল মেয়রের মন্তব্যে। মেয়র জানিয়েছেন,  ত্রিফলা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে  কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা ঠিক হবে  মেয়র পারিষদের বৈঠকে।  প্রশ্ন উঠছে যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, সেই মেয়র বা মেয়র পারিষদ সদস্যরা কীভাবে নিজেরাই নিজেদের বিচার করবেন ?
ত্রিফলা আলো নিয়ে শুরু থেকেই দুর্নীতির অভিযোগ কলকাতা পুরসভার বিরুদ্ধে। এমনকি এই নিয়ে বেসরকারি  অডিট সংস্থা যে আভ্যন্তরীন অডিট রিপোর্ট জমা দিয়েছিল তাতেও ধরা পড়েছে ব্যাপক গরমিল।
কি ছিল সেই রিপোর্টে? দেখে নেওয়া যাক সেটাই---
 
১) সম্পূর্ন অবৈধভাবে টেন্ডার না ডেকেই সমস্ত রাস্তায় আলো বসানোর বরাত দেওয়া হয়েছিল।
 
২) দুটি আলোর মধ্যে দূরত্ব এক এক জায়গায় এক এক রকম।
 
৩) কোনও রকম দরপত্র না ডেকেই একশো টাকা করে বেশি দিয়ে ত্রিফলার জন্য বালব্ কেনা হয়েছিল।
 
৪) ত্রিফলায় যে তার ব্যবহৃত হয়েছিল তার দাম বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন।
 
৫) পার্শবর্তী এলাকার পুরসভা যে দামে ত্রিফলা লাগিয়েছিল তার থেকে অনেক বেশি দামে ত্রিফলা কিনেছে কলকাতা পুরসভা। 
 
৬) পুরসভার নিজস্ব এন্টালি ওয়ার্কশপে পোল তৈরি হওয়া সত্বেও বাইরে থেকে বেশি দামে পোল কেনা হয়েছিল।
 
ত্রিফলা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগের আঁচ পড়ল পুরসভার অধিবেশনে। মঙ্গলবার মেয়র জানান, আগামী মেয়র পারিষদের বৈঠকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় তার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
 
 
মেয়রের এই মন্তব্য ঘিরে উঠেছে বিতর্কের ঝড়। কংগ্রেসের দাবি, যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, কিভাবে তাঁরা নিজেরাই নিজেদের বিচার করবেন?
 
 
এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দলনেত্রী রূপা বাগচীও। ত্রিফলাকাণ্ডে দুর্নীতি নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করেছিল বামেরা। কংগ্রেসের দাবি ছিল সিবিআই তদন্ত। কিন্তু বিরোধীদের দাবি নস্যাত্‍ করে মুখ্যমন্ত্রী, মেয়র এবং পুর ও নগোরোন্নয়ন মন্ত্রী দাবি করেন ত্রিফলা নিয়ে কোনও দুর্নীতিই হয়নি। তাহলে কেন মেয়র নিজেই শাস্তির কথা বললেন? কেনই বা দুর্নীতি নিয়ে তদন্তের কথা বললেন? মেয়রের মন্তব্য, দুর্নীতি নিয়ে অভ্যন্তরীন অডিট রিপোর্টে ওঠা বিতর্কই নতুন করে উস্কে দিল।
 
পুরসভার আধিকারিকদের আশঙ্কা, এবারও কি দায় এড়াতে খাঁড়ার ঘা নেমে আসবে পুরসভার আধিকারিকদের ওপরই? আপাতত এই আশঙ্কাকে অমূলক  মনে করছেন না অনেকেই।