উড়ালপুলে বিভ্রাট, যানজটে ভুর্ভোগ নিত্যযাত্রীদের

Update: March 4, 2013 18:24 IST

ভয়ঙ্কর বিপর্যয়ের হাত থেকে বেঁচে গেল কলকাতা। গতকাল ভোররাতে, উল্টোডাঙা-বাইপাস সংযোগকারী উড়ালপুলের একাংশ ভেঙে পড়ে। উপর থেকে ছিটকে পড়ে মার্বেলবোঝাই একটি ট্রেলার। ট্রেলারের চালক ও দুই খালাসি গুরুতর জখম হয়েছেন।

সময় তখন ভোর ৪টে ২০। ভেঙে পড়ল উল্টোডাঙা-বাইপাস সংযোগকারী ফ্লাইওভার। ছিটকে পড়ল রাজস্থান থেকে আসা মার্বেল বোঝাই একটি ট্রেলার। ট্রেলারের চালক ও দুই খালাসিকে উদ্ধার করে আরজি কর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুর্ঘটনার পরে উদ্ধারকাজ যা করার করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারাই। দমকল আর বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও তাঁদের তেমন কিছু করার ছিল না। ঘটনাস্থলে যান একাধিক মন্ত্রী। ব্রিজের নীচের জলা পরীক্ষার পরে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর নিশ্চিত, আর কেউ আটকে নেই। কিন্তু নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। 

উড়ালপুলের ভেঙে পড়া অংশ সারাতে সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন পুরমন্ত্রী। ফলে সোমবার থেকে যানজট বেড়ে যায় উল্টোডাঙা এলাকায়। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবছে প্রশাসন। রবিবার বিকেলে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কেএমডিএ এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা। 
 
ইতিমধ্যেই নির্মাণকারী সংস্থা এবং ট্রেলারের চালকের বিরুদ্ধে পুলিসে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তবে সব কিছু ছাপিয়ে উঠছে একটাই কথা, ভাগ্যিস দুর্ঘটনাটা ঘটল রবিবার ভোররাতে। কাজের দিনের ব্যস্ত সময়ে ঘটনাটা ঘটলে কী হত, তা ভাবলেই শিউড়ে উঠছেন সবাই। 

Post Your Comment

Total Comments:2

akhaneo ghabla.... kothaochar nei mairi..

Ashok babur ku kirti ektu ektu kore samne asche

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।