কী এই গ্রিড?

Update: July 31, 2012 22:20 IST

গ্রিড বিকল হয়ে যাওয়াতেই গোটা দেশজুড়ে নজিরবিহীন বিদ্যুত্‍ বিপর্যয় দেখা দেয়। কিন্তু কী এই গ্রিড? গ্রিড হল সেই সংযোগকারী নেটওয়ার্ক যার মাধ্যমে বিদ্যুত্‍ উত্‍পাদনকারী কেন্দ্র থেকে বন্টন কেন্দ্রে বিদ্যুত্‍ সরবরাহ করা হয়। অর্থাত্‍ গ্রিডের একদিকে থাকে বিদ্যুত্‍ উত্‍পাদন কেন্দ্র এবং অন্যদিকে বিদ্যুত্‍ বন্টন সংস্থা। বিদ্যুত্‍ উত্‍পন্ন হওয়ার পর ট্রান্সমিশন লাইনের মাধ্যমে তা সাব-স্টেশনে যায়। সেখান থেকে বিদ্যুত্‍ নিয়ে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেয় বিদ্যুত্‍ বন্টন সংস্থা। আর এই গোটা প্রক্রিয়াটাই হয় গ্রিডের মাধ্যমে।

সেই কারণেই গ্রিড বিকল হয়ে পড়ায় ভেঙে পড়েছে বিদ্যুত্‍ সরবরাহের পুরো ব্যবস্থা। কোনও রাজ্যে বিদ্যুত্ উদ্বৃত্ত হলে সংশ্লিষ্ট রাজ্য তা গ্রিডে দিয়ে দেয়। গ্রিডের মাধ্যমেই সেই বাড়তি বিদ্যুত্‍ চলে যায় এমন রাজ্যে যেখানে বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে। গ্রিড বিকল হওয়ায় সেই ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। ফলে আঁধার নেমে এসেছে দেশের ২২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে। প্রাথমিকভাবে তাপবিদ্যুত্‍ কেন্দ্রগুলি টার্বাইন ঘোরানোর জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুত্‍ নেয় গ্রিডের কাছ থেকেই। সেকারণে গ্রিড বিকল হয়ে পড়ায় তাপবিদ্যুত্‍ কেন্দ্রগুলির উত্‍পাদনও ধাক্কা খেয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর ১টা নাগাদ নর্দার্ন পাওয়ার গ্রিডের সঙ্গে ইস্টার্ন পাওয়ার গ্রিড`ও বিকল হয়ে যায়। ফলে পঞ্জাব, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ, উত্তর প্রদেশ রাজস্থান-সহ উত্তর ভারতের রাজ্যগুলির পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, অসম সমেত মোট ১৯টি রাজ্যের বিদ্যুত্‍ পরিষেবা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তবে এই প্রথম দেশের ৫ টি পাওয়ার গ্রিডের মধ্যে ৩ টিই বিকল হওয়ার মত ঘটনা ঘটল।





Post Your Comment

Total Comments:1

EI BIBHRAT MITBE KOBE ?

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।