কলকাতায় অনার কিলিং, বোনের মাথা কেটে আত্মসমর্পণ দাদার

Update: December 7, 2012 19:30 IST

পরিবারের সম্মান বাঁচাতে মধ্যযুগীয় বর্বরতার সাক্ষী থাকল কলকাতা। প্রথম 'অনার কিলিং' এর ঘটনা ঘটল এরাজ্যে, খোদ কলকাতার বুকে। বন্দরের কাছে নাদিয়াল থানা এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে পালিয়ে আসা অত্যাচারিত বোনের মাথা কেটে খুন করল দাদা। পরে সেই কাটা মাথা নিয়েই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করে খুনি মেহতাব আলম।

প্রায় আট বছর আগে আকবরের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল নীলোফারের। তাঁদের দুটি সন্তানও রয়েছে। কিন্তু শ্বশুরবাড়িতে প্রতিদিনই নীলোফার অত্যাচারিত হত বলে অভিযোগ। গত ২৯ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার, হঠাত শ্বশুরবাড়ি থেকে উধাও হয়ে যায় নীলোফার। পরদিন তাঁর বাবা থানায় একটি নিখোঁজের অভিযোগ জানান। এতদূর পর্যন্ত কোনও সম্মানহানির ঘটনা ঘটেনি।

কিন্তু নীলোফারের দাদা মেহতাব আলম জানতে পারেন, নীলোফার শ্বশুরবাড়ি থেকে পালিয়ে তাঁর প্রাক্তন প্রেমিক ফিরোজের কাছে গিয়ে উঠেছে। মেহতাব খোঁজ নিতে শুরু করে। জানতে পারে নীলোফারকে নিয়ে ফিরোজ তাঁর দাদার বাড়িতে লুকিয়ে রয়েছে। শুক্রবার সকালে মেহতাব আলম একটি তরোয়াল নিয়ে সেই বাড়িতে চড়াও হয়। ফিরোজের বৌদি সাবু বাধা দিতে গেলে প্রথমে মেহতাব তাঁকে কোপ মারে। সাবুর হাত কেটে প্রায় ঝুলে পড়ে। তারপরেই বোন নীলোফারকে টেনে-হিঁচড়ে বার করে মেহতাব আলম। প্রকাশ্যে তরোয়ালের এক কোপে ধড় আর মাথা আলাদা করে দেয়। তারপর সেই কাটা মাথা নিয়ে তরোয়ালসহ নাদিয়াল থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করে। পুলিস মেহতাব আলমকে গ্রেফতার করেছে।

প্রত্যন্ত গ্রাম নয়, খাস কলকাতায় এমন ঘটনা ঘটে যাওয়ায় স্তম্ভিত পুলিস-প্রশাসন সহ নাগরিক সমাজ।






Post Your Comment

Total Comments:10

প্রত্যেকটি মানুষ নিজ নিজ ধ্যান ধারণা অনুযায়ী যে কোন বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করে থাকে ইহাই চিরন্তন রীতি।সুতরাং যে কোন ভাল কিংবা মন্দ বিষয় হোক না কেন আপনি পক্ষে ও বিপক্ষে লোক পাবেনই পাবেন। তাই বলছি মধ্য যুগের প্রতি অঙ্গুলি হেলন করলেও ঘটনা কিন্তু একবিংশ শতাব্দির। ভবিষ্যতে এরুপ ঘটনা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য, এসমস্ত স্পর্শকাতর বিষয়ক অভিযোগে প্রসাশন ও বিচারবিভাগের তৎপরতা ও ক্ষিপ্রতা বৃদ্ধি করা আবশ্যক।

Eder kathor saja dorkar.Kintu prosno holo sei saja debe ke?

Abp te comment post kora bando. Tmc r jolladra ekhon 24ghanta te ese hoito comnt post korbe.

Ei loktar sobar samne fasi dewa uchit. Obak hochchhi dekhe je okhankar lokjon kajtake support korlo.

amon apradhi khula chara uchit noy,

Ar jonno dhai somajh...joto din jacche manus thotho hinsro hoa jacche....

এর জন্য দায়ী সমাজের নিয়মকানুন ও মৌলবাদ । কোন সরকার এই সমস্ত কিছুর বিরুদ্ধে না প্রতিবাদ করে না সংগ্রাম করে । ধর্মীয় দালালেরা মানুষকে আরো পাঁকে ঠেলে দেয় । কঠিণতম শাস্তি চাই এরকম নরাধম গুলোর ।

Jar bedona sei bojhe.

manus eto omanobik hote parey? Kothis shasti. Ki nirmam.

UFF ! KI SANGHATIK !

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।