মুখ্যমন্ত্রীর ক্রমাগত দুর্ব্যবহারে ক্ষোভে ফুঁসছে পুলিসমহল

মুখ্যমন্ত্রীর ক্রমাগত দুর্ব্যবহারে ক্ষোভে ফুঁসছে পুলিসমহল

মুখ্যমন্ত্রীর ক্রমাগত দুর্ব্যবহারে ক্ষোভে ফুঁসছে পুলিসমহলগাড়ি দেরিতে আসায় মুখ্যমন্ত্রীর রোষানলে পড়তে হল দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিসকর্মীকে। এবারই প্রথম নয়, গত কুড়িমাসে বিভিন্ন সময়ে বার বার মুখ্যমন্ত্রীর রোষে পড়তে হয়েছে একাধিক পুলিস কর্মী ও আধিকারিককে।

বুধবার জুটল তিরষ্কার। অথচ দেড়মাস আগে কলকাতা পুলিসের অলঙ্করণ সমারোহে কলকাতা পুলিসের এই সার্জেন্টকে নিজে সেবা পদকে সম্মানিত করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা দায়িত্বে রয়েছেন কে কে দ্বিবেদী। কে কে দ্বিবেদী প্রথম নন। বারাসতে এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর খুব কাছে চলে আসেন এক মহিলা। সেই ঘটনার পর সরিয়ে দেওয়া হয় মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই নিরাপত্তা রক্ষীকে।
 
 পার্কস্ট্রিট কাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রীর সাজানো ঘটনা তত্ত্বের সঙ্গে একমত হননি তত্কালীন গোয়েন্দাপ্রধান দময়ন্তী সেন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই পদ থেকে সরতে হয়েছিল তাঁকে। গোয়েন্দাপ্রধান থেকে অপেক্ষাকৃত অনেক কম গরুত্বপূর্ণ ডিআইজি ট্রেনিং পদে বদলি করা হয় দময়ন্তী সেনকে।

শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নির্দেশেই লোবা গ্রামে এক বেসরকারি সংস্থার পে লোডার উদ্ধার করতে গিয়েছিলেন বীরভূমের এসপি হৃষিকেশ মিনা। গ্রামবাসীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় গুলি চালায় পুলিস। শুরু হয় চাপানউতোর। এরপরই সরিয়ে দেওয়া হয় পুলিস সুপার হৃষিকেশ মিনাকে।   

 
আসানসোলে সরকারি অনুষ্ঠানে ছাত্রীদের বিতরণের জন্য নিয়ে আসা সাইকেল মঞ্চে তুলতে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্দেশ পালন না করায় মুখ্যমন্ত্রীর রোষে পড়তে হয় আসানসোলের অতিরিক্ত জেলাশাসক জয়ন্ত কুমার আইকতকে। এবং এক্ষেত্রেও নিজের পদ থেকে সরতে হয় তাঁকে। পুলিস কর্মীদের একটা বড় অংশের মত, কোনও একজন পুলিস কর্মীর পক্ষে মুখ্যমন্ত্রীর এই আচরণের প্রতিবাদ করা সম্ভব নয়, এরজন্য দরকার সংগঠনের। তাঁদের অভিযোগ, ঠিক সেই কারণেই ক্ষমতায় আসার পরই পুলিস কর্মীদের সংগঠন করার অধিকার কেড়ে নিতে উদ্যোগী হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।
 





First Published: Thursday, February 07, 2013, 17:57


comments powered by Disqus