জমি জটে আটকে জোকা-বিবাদিবাগ মেট্রো

Update: August 6, 2012 18:12 IST

জমি জটে ফের বিপাকে জোকা-বিবাদিবাগ মেট্রো। সেনাবাহিনীর আপত্তিতে ফোর্ট উইলিয়ামের নিচ দিয়ে মেট্রো পথ যাবার অনুমতি মিলল না। ফলে বিকল্প পথের সন্ধানে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছিল খিদিরপুরের পর হেস্টিংস স্টেশন থেকে ফোর্ট উইলিয়ামের নিচ দিয়ে সরাসরি বর্তমান পার্কস্ট্রিট স্টেশনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে জোকা-বিবাদিবাগ মেট্রোকে। কিন্তু সেনাবাহিনী সাফ জানিয়েছে, ফোর্ট উইলিয়ামের নিচে সেনাবাহিনীর ট্রেঞ্চ রয়েছে। সেটি তাদের অপারেশনাল এরিয়া। ফলে জাতীয় নিরাপত্তার কারণে মেট্রোকে সেখানে কাজ করতে দেওয়া যাবেনা। তাই বিপাকে পড়ে মেট্রো কর্তৃপক্ষ এখন হেস্টিংস স্টেশনকে বাদ দিয়ে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল নামে নতুন স্টেশনের চিন্তাভাবনা করছেন। ভিক্টোরিয়ার উত্তর গেটের সামনে স্টেশন তৈরি করে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের নিচ দিয়ে মেট্রোকে পার্ক স্ট্রিট পর্যন্ত নিয়ে যাবার চিন্তাভাবনা চলছে। তবে, নতুন পথেও রয়েছে নানাবিধ জটিলতা।

১) বিকল্প পথে মেট্রো নিয়ে যেতে অতিরিক্ত ২.৫ কিলোমিটার টানেল তৈরি করতে হবে।
২) এরফলে প্রকল্পের খরচ কমপক্ষে ৪০ কোটি টাকা বাড়বে।
৩) যাবতীয় টালবাহানায় প্রকল্পের কাজ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় কাঁচামালের দাম ও শ্রমিকের মজুরির খরচ বাড়ায় নির্ধারিত ব্যায়বরাদ্দে মেট্রোর কাজ শেষ করা কার্যত অসম্ভব।
৪) ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল ও ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড ও সেনাবাহিনীর এক্তিয়ারে। এখনও সেখান থেকে নতুন পথের ছাড়পত্র মেলেনি।
৫) ২০১৫-র ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে জোকা-বিবাদিবাগ মেট্রোর কাজ শেষ হবার কথা ছিল। পরিবর্তিত অবস্থায় ২০১৭-র আগে কোনওমতেই কাজ শেষ করা যাবেনা।

বাধ্য হয়ে ২৬১৯ কোটি টাকার এই প্রকল্পে এখন আপস করতে শুরু করেছে মেট্রো রেল। আপাতত ঠিক হয়েছে পরবর্তী জমি জট না কাটলে ২০১৪-র মধ্যে জোকা থেকে মাঝেরহাট পর্যন্ত মেট্রোর কাজ সম্পূর্ণ করে তা যাত্রীদের জন্য চালু করে দেওয়া হবে।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।