মমতার জমানার রেল আর অধীরের রেলের ফারাক

Update: November 28, 2012 19:05 IST

রেলের অনুষ্ঠানের খরচ ঘিরে রীতিমতো চাঞ্চল্যকর তথ্য। মমতা বন্দোপাধ্যায়ের জমানায় রেলের একটি অনুষ্ঠানের জন্য খরচ হত প্রায় ৬ লক্ষ টাকা। সোমবার অধীর চৌধুরীর রেলের অনুষ্ঠানের খরচ লাখ টাকার কম। কেমন করে সম্ভব? তা নিয়েই এই বিশেষ প্রতিবেদন।

পুরানো সেই দিনের কথা। রেলের চোখ ধাঁধানো জাঁকজমক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে ডাক পড়ত নামীদামী শিল্পীদেরও। দু চারটে গান গাওয়ার জন্য কেউ পেতেন ৬০ হাজার কেউ বা তারও বেশি। এছাড়া ছিল পাতা ভর্তি বিজ্ঞাপন। একই দিনে তিনটে অনুষ্ঠান হলে প্রত্যেকটার জন্য আলাদা আলাদা বিজ্ঞাপন।
 
রেল দফতরের প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর সোমবার  রেলের তিনটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন অধীর চৌধুরী। সাদামাটা মঞ্চ, জাঁকজমক উধাও। পাতার এক কোণায় ছোট্ট বিজ্ঞাপন। দুটো অনুষ্ঠানের মধ্যে খরচের ফারাক কত---
 
রেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী 
 

আগের খরচ
মঞ্চ
- লক্ষাধিক টাকা।
আলো
- ৫০ হাজার টাকা।
রিফ্রেশমেন্ট - প্রায় ৫০ হাজার টাকা।
শিল্পীদের পারিশ্রমিক
- প্রায় লক্ষাধিক টাকা। বিজ্ঞাপন বাবদ - তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা।
মোট খরচ প্রায় ৬ লাখ টাকা।
 
বর্তমানে রেলের অনুষ্ঠানের খরচ কত?
মঞ্চ - ৪০ হাজার টাকা।
আলো - ৩০ হাজার টাকা।
বিজ্ঞাপন
-  ৫০ হাজার টাকা।
 
মোট এক লাখ টাকার কাছাকাছি। অর্থাত্‍ অনুষ্ঠান পিছু খরচ বাঁচল প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। রেলের ভাঁড়ারের অবস্থা নিদারুণ খারাপ। আদৌ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত করা যাবে কিনা তা নিয়ে মাথায় হাত রেলমন্ত্রীর। কেন এইভাবে শূন্য হয়ে গেল রেলের ভাঁড়ার? অপরিকল্পিত ব্যয়ই কি এর অন্যতম কারণ? মন্ত্রী বদলের পর কিন্তু এই প্রশ্নগুলি জোরালোভাবে উঠতে শুরু করেছে। শুধু অনুষ্ঠানের জাঁকজমক করে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করাই নয় বিভিন্ন বুদ্ধিজীবীদের কমিটি করেও খরচ করা হয়েছে প্রচুর টাকা। আদৌ এই কমিটি গড়ে এতো টাকা খরচ করার কোনও কারণ ছিল কিনা তাও খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে।   






Post Your Comment

Total Comments:3

ADHIRBABUR KACHE ANURODH JE SOMOSTO SILPIKE TAKA DEYA HOYA CHILO TADER NAMER TALIKA PROKASH KORAR ANURODH KORCHI. BISESH KORE EK TV CHNL.GHOSOK PROTITI ANUTHANE GHOSOK HISABE THAKTEN.

Jebhabe Railwayer taka uni Udbodhoni khate apochoi korechelin ta jekono sustho loker gatro daho hobai. Sudhu matro protiti anuthane PONCHASTA KORE SABUJ FLAG KENA BA TAIRI KORA HOYACHILO. AKHATE KUKHATE KHAROCH KORER KONO JURI NAI IHAR NAMKI ``SASOTAR PRATIK``

I VERY VFERY THANKS FOR ODHIR BABU

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।