মেডিক্যাল কলেজে জটিল অস্ত্রোপচার, প্রাণ বাঁচল ছোট্ট শামিমের

Update: May 5, 2012 14:28 IST

বারো দিনের সদ্যোজাত শিশুর গলায় আটকেছিল নাকছাবি। খাওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। শ্বাসকষ্ট তীব্র হচ্ছিল। অপারেশন করাতে গেলে অজ্ঞান করা জরুরি। শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে অজ্ঞান করে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অসাধ্য সাধন করলেন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের চিকিত্সকরা। ইএনটি বিভাগের চিকিত্‍সকদের মরিয়া চেষ্টায় প্রাণে বাঁচাল ছোট্ট শামিম আহমেদকে।

ক্যানিংয়ের জীবনতলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে বাড়ি বারোদিনের সদ্যোজাত শিশু শামিম আহমেদের। বাড়ির লোকের অসাবধানতাবশত শিশুটির শ্বাসনালীতে আটকে যায় একটা আস্ত নাকছাবি। বৃহস্পতিবার রাতভর বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরলেও অত ছোট শিশুর অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি নিতে চাননি কোনও চিকিত্‍সক। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হতে থাকে। মাঝরাতে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয় শামিমকে।
 
শিশুটিকে পরীক্ষা করে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন চিকিত্‍‍সকরা। কিন্তু বারো দিনের শিশুর গলায় অস্ত্রোপচার চিকিত্‍সকদের কাছে একটা কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল। ঝুঁকি নিয়ে অস্ত্রোপচার করা ছাড়া কোনও উপায় ছিল না। এমনই অভিমত বিশেষজ্ঞ চিকিত্‍সকদের।
 
মেডিক্যাল কলেজের চিকিত্‍সক তুষার চক্রবর্তী শিশুটির অ্যানাসথেশিয়ার দায়িত্ব নেন। সফল অস্ত্রোপচারের পর ধীরে ধীরে জ্ঞান ফিরে স্বাভাবিক হয় বারোদিনের ছোট্ট শামিম।  

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।