জমি গেরোয় অনিশ্চয়তার মুখে জাতীয় সড়ক প্রকল্প

Update: August 6, 2012 17:12 IST

বিদ্যুত্‍ প্রকল্পের মতোই রাজ্য সরকার জমি অধিগ্রহণে ব্যর্থতায় স্তব্ধ ৫ টি জাতীয় সড়ক প্রকল্পের কাজ। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জমি অধিগ্রহণের আর্জি জানালেও এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকার প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমির মাত্র ১৩ শতাংশ অধিগ্রহণ করতে পেরেছে। তবে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের হাতে এখনও কোনও জমি হস্তান্তর করা হয়নি। জমি না পাওয়ায় ২ বছর ধরে বন্ধ এরাজ্যে জাতীয় সড়ক প্রকল্পের কাজ।

২০১০ সালে রাজ্যের ৫টি জাতীয় সড়কে বড় সম্প্রসারণের প্রকল্প নেয় জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। প্রকল্প রূপায়ণের জন্য প্রয়োজন ১ হাজার ৭৭২ হেক্টর জমি। কিন্তু গত দুবছরে রাজ্য সরকার মাত্র ২৩৩ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করতে পেরেছে। যা প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমির মাত্র ১৩ শতাংশ। তবে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ইতিমধ্যেই তাঁরা রাজ্য সরকারকে ২৩৬ হেক্টর জমির জন্য ক্ষতিপূরণের টাকা দিয়ে দিয়েছে। কিন্তু রাজ্য সরকার এখনও পর্যন্ত তাদের কোনও জমি হস্তান্তর করতে পারেনি।

সম্প্রতি রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়ে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে প্রকল্পের কাজে আর দেরি হলে ওই প্রকল্প বাস্তবায়নেই সমস্যা তৈরি হবে। দীর্ঘ দিন ধরে প্রকল্পের কাজ ঝুলে থাকায় ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা প্রকল্প থেকে সরে যেতে চাইছেন। ৫ টি প্রকল্পের মধ্যে রাজ্যের সবকটি জাতীয় সড়কই রয়েছে। রয়েছে জাতীয় সড়ক ৩৪, জাতীয় সড়ক ৩১,জাতীয় সড়ক ৬,জাতীয় সড়ক ২,এবং জাতীয় সড়ক ৩১ ডি এর সম্প্রসারণ। প্রয়োজনীয় ১ হাজার ৭৭২ হেক্টর জমি রাজ্যের প্রায় ১২ টি জেলায় ছড়িয়ে রয়েছে। এই জেলাগুলির মধ্যে রয়েছে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর, কোচবিহার, মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর চব্বিশ পরগনা, হাওড়া, দুই মেদিনীপুর, ও বর্ধমান। তবে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের এই বক্তব্যকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেনা রাজ্য সরকার। তাঁদের বক্তব্য সমস্যাটিকে জমি অধিগ্রহণের সমস্যা থেকে বাড়িয়ে দেখানো হচ্ছে।







Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।