রাজ্য সরকারের সমালোচনায় মুখর সুর্যকান্ত

Update: August 25, 2012 23:57 IST

রাজ্যের আইনশৃঙ্কলা থেকে বাক স্বাধীনতা, রাজ্য সরকারের শিল্পনীতি থেকে পুলিসের নিরাপত্তা নানান বিষয়ে মমতা বন্দ্যপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকারকে কার্যত এক হাত নিলেন বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র। শনিবার বিজয়গড়ে সিটুর জেলা সম্বেলন উপলক্ষে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে একাধিক সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন সূর্যবাবু।

রাজ্যে বারতে থাকা ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় রিতিমত উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলনেতা। তিনি বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী বলছেন মহিলাদের ওপর যত আক্রমণ হচ্ছে সব বানানো। আসলে তৃণমূল, তৃণমূলের বিরুদ্ধে মামলা করছে"। সেইসঙ্গে পুলিসি নিশৃয়তা নিয়েও মুখ খোলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, "উনি বলছেন ব্যবস্থা নেব। কিন্তু পুলিস এফআইআর নিচ্ছে না"।

একদিকে যখন খোদ মুখ্যমন্ত্রী সংবাদ মাধ্যম `টাকা নিয়ে` খবর করছে বলে অভিযোগ করেছেন, তখন সুর্যবাবু সংবাদ মাধ্যম কর্মীদের আক্রান্ত হওয়ার নিন্দা করেন। রাজ্যে বাক স্বাধীনতা খর্ব করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাজ্যে `জরুরী অবস্থা` জারি হয়েছে বলে কটাক্ষ করেন প্রাক্তন মন্ত্রী। তিনি বলেন, "আরামবাগে ওসির রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে এসডিপিও বলছেন, বুদ্ধদেব ভাট্টাচার্য ওখানে সভা করলে নাকি আইনশৃঙ্খলার অবনতি হবে"।

এদিনের বক্তব্যে তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের নেত্রী দোলা সেনের হাতে পুলিসের মাড় খাওয়া ও বিশরপাড়ায় দুষ্কৃতিদের হাতে কলকাতা পুলিসের কর্মী খুন হওয়ার ঘটনার কড়া সমালোচনা করেন তিনি।

শিল্পায়ন নিয়েও রাজ্য সরকারের শিল্পনীতির বিরুদ্ধে সুর চড়ান সূর্যকান্ত বাবু। তিনি বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, আমাদের শিল্প বৃদ্ধি পেয়েছে। কোথায় দেখতে পারছেন আপনারা?" বনিকসভার রিপোর্টের প্রসঙ্গ টেনে রাজ্যে গত তিন মাসে কাজের সুযোগ তিন ভাগের এক ভাগ কমে গিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।