ঘর গোছানোর পরিকল্পনায় তৃণমূল

Update: February 17, 2013 20:51 IST

গার্ডেনরিচকাণ্ডের পর ঘর গোছানোর কাজ শুরু হল তৃণমূলের অন্দরে। আগামী সপ্তাহেই গার্ডেনরিচ-মেটিয়াবুরুজের পুর প্রতিনিধি ও নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠকে বসতে চলেছেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি। যদিও, স্থানীয় বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনও বৈঠকের কথা তাঁর জানা নেই। আর এই বৈঠকে দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের উপস্থিতি নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।

গার্ডেনরিচকাণ্ডে জড়িয়ে গিয়েছে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের নাম। এই অবস্থায় ড্যামেজ কন্ট্রোলে দল কার্যত মরিয়া। দলের অন্দরে ইতিমধ্যে শুরুও হয়ে গিয়েছে সেই প্রক্রিয়াও। আগামী সপ্তাহেই গার্ডেনরিচ-মেটিয়াবুরুজ এলাকার পুর প্রতিনিধি ও দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠকে বসছেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি এবং সাংসদ সুব্রত বক্সি। তাঁর বক্তব্য, "সাংসদ তহবিলের টাকা  খরচের খতিয়ান নিয়েই এই বৈঠকে আলোচনা হবে। সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে কোনও আলোচনা হবে না ওই বৈঠকে।"

তবে, দলের অন্দরে খবর, অন্তর্দ্বন্দ্বে জর্জরিত গার্ডেনরিচ-মেটিয়াবুরুজের দলীয় নেতাদের সংগঠিত করতেই এই বিশেষ বৈঠক। আর এই সভায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের উপস্থিত থাকার সম্ভাবনায় নতুন করে দানা বাঁধতে শুরু করেছে জল্পনা। তাহলে কি গার্ডেনরিচ-মেটিয়াবুরুজ অঞ্চলে সংগঠনের দায়িত্বে ফিরহাদ হাকিমের বদলে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে আনতে চাইছে দল? স্থানীয় বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম অবশ্য রবিবারও জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহের বৈঠকের বিষয়ে কিছুই জানেন না তিনি। তাঁর মতে, স্থানীয় সাংসদ হিসেবে এধরনের বৈঠক ডাকতেই পারেন সুব্রত বক্সি। ফিরহাদকে সরিয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গার্ডেনরিচ-মেটিয়াবুরুজ এলাকায় দলের দায়িত্ব দেওয়া হবে কিনা, আগামী সপ্তাহের বৈঠক থেকেই এ বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।