দফতর বদলে অসন্তুষ্ট রবীন্দ্রনাথ

Update: November 22, 2012 22:01 IST

বারবার দফতর বদলে অসন্তুষ্ট রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। গত দেড় বছরে দু-বার তাঁর দফতর বদল হয়েছে। মন্ত্রিসভায় রদবদলের পর অনেকেই আজ নতুন দায়িত্ব বুঝে নেন। তবে রবীন্দ্রনাথবাবু আজ নতুন দফতরে যাননি। তাঁর কথায় অভিমানের সুর  স্পষ্ট।

২০১১-তে রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর মন্ত্রীদের তালিকায় রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের নাম দেখে অবাক হননি কেউ। সিঙ্গুর আন্দোলনের অন্যতম এই কাণ্ডারীর মন্ত্রিসভায় জায়গা কার্যত পাকাই ছিল। তাঁকে দেওয়া হয় স্কুল শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব। তবে পরিবর্তন আসে কয়েকমাসের মধ্যেই। দফতর বদলে শিক্ষামন্ত্রী থেকে রবীন্দ্রনাথবাবুকে কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব  দেওয়া হয়। মন্ত্রিসভার সদ্য রদবদলে আবারও পরিবর্তনের কোপে পড়লেন তিনি। এবার তিনি পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি রূপায়ণ দফতরের দায়িত্বে।

নিজের নতুন দফতর সম্পর্কে তিনি যে বিশেষ আগ্রহী নন, সেকথা স্পষ্ট মন্ত্রীর কথাতেই। বৃহস্পতিবার নিজের নতুন দফতরে যাননি রবীন্দ্রনাথবাবু। কবে যাবেন? কবে নেবেন দায়িত্ব? এ প্রশ্নের উত্তরও যেন এড়িয়ে যেতে চাইলেন।

নিজের ক্ষোভকে হয়ত কোনও শব্দ দেননি রবীন্দ্রনাথবাবু। ক্যামেরার সামনে  প্রতিবাদে গর্জে ওঠেননি। তবে চুপ নেই সিঙ্গুরের মানুষ। সিঙ্গুরে অনিচ্ছুক কৃষকদের জমি ফেরতের প্রতিশ্রুতি আজও পূর্ণ করতে পারেননি মুখ্যমন্ত্রী। এজন্য ক্ষোভ আগে থেকেই ছিল। তা আরও বেড়েছে রবীন্দ্রনাথবাবুর বারবার দফতর পরিবর্তন ইস্যুকে ঘিরে। সিঙ্গুরবাসীর একাংশের দাবি, এর জবাব দিতে হবে মুখ্যমন্ত্রীকেই।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।