স্যান্ডি মানেই বোহোশিক-মিসম্যাচ

আপনার আলমারি ঘেঁটেই পাঁচ বছরের পুরনো পোষাকেও সেজে উঠুন নতুন করে।

Updated: Oct 8, 2012, 02:21 PM IST

ড্রেস ডিজাইনার আর জুয়েলারি ডিজাইনার তো অনেক আছেন। তবে কলকাতায় পুরোপুরি লুক ডিজাইনার বলতে একজনের কথাই মাথায় আসে। স্যান্ডি। ফ্রম হেড টু টো রমাল থেকে বেড়াল বানাতে বোধহয় স্যান্ডিই পারেন। গত ৪ বছর ধরে কলকাতার যে কোনও বিউটি কনটেস্ট, ভেঙ্কটেশ ও অশোক ধানুকা মুভিজ থেকে প্যানাসনিকের অ্যাড ক্যাম্পেন, স্যান্ডি ছাড়া ভাবতেই পারেন না কেউ। নতুন জামা, ম্যাচিং জুতো এসব কিছুরই ধার ধারেন না স্যান্ডি। পুরনো, বাতিল, নট সো ম্যাচিং নিয়েই তাঁর কারবার। কাজেই কাজের চাপে পুজোর শপিং সেরে উঠতে না পারলেই দ্বারস্থ হয়ে যান স্যান্ডির। আপনার আলমারি ঘেঁটেই পাঁচ বছরের পুরনো পোষাকেও সেজে উঠুন নতুন করে। কথা বললেন প্রমা মিত্র।
এই পুজোর অ্যাসেম্বল
এই পুজোয় পিক বোহোশিক লুক। বোহেমিয়ান অ্যান্ড শিক কম্বিনেশেন। মিসম্যাচ ইজ এখন দারুণ ফ্যাশনে। যেটার সঙ্গে যেটা পরা যায় সেটা না পরে যেটা পরা যায় না সেটা পরো। যেরকম হারেম প্যান্টস উইথ স্প্যাগেটি, সঙ্গে হাতভর্তি চুড়ি, সঙ্গে জুতি। সঙ্গে সুন্দর ঝুমকা, কপালে ছোট্ট টিপ, ওয়ার্কড আউট ব্যাগ। পুজোয় এটা দারুণ চলবে। কারণ এটা কমফর্টেবল, ইন্ডিয়ান আবার বোহেমিয়ান। বা ধরো পাতিয়ালা বা ড্রপ ক্রচড প্যান্টস বা যোধপুরি প্যান্টসের সঙ্গে ব্রাইট কালারড টি-শার্ট। বা অল্পো সিক্যুইন বা এমব্রয়ডারি করা টপ। সঙ্গে একটা সুন্দর ক্রাশড কটন স্কার্ফ। ওয়ার্কড আউট ব্যাগ, চুড়ি, ছোট্ট টিপ। খোলা চুল। সব মিলিযে একটা দেশি অ্যাপিয়ারেন্স। এবারে পুজোয় যাই পরো না কেন তার মধ্যে একটা দেশি টাচ থাকলে ভালো হয়। যে কোনও ভাবেই ড্রেসকে ইন্ডিয়ানাইজ করা যায়। একটা রেগুলার শার্ট কিনে হালকা ব্রোকেডর পাইপিং করেই নিলেই একটা ভারতীয় ব্যাপার চলে আসে।

পুরনো পোষাকের রিসাইক্লিং
ধরো একটা পুরনো সলিড কালার কুর্তি রয়েছে তোমার। নেকলাইন একটু ডিপ করে নিলে। জুতোর ফিত বাঁধার মত ফুঁটো করে নিয়ে একটা সুন্দর দড়ি বা জরির ফিতে ভরে নিলে খুব ভালো লাগবে। সঙ্গে একটা পুরনো ছোট্ট ঝুমকো লাগিয়ে নিলে আর কুর্তির বর্ডারে মায়ের পুরনো শাড়ির সুন্দর পাড় বা প্রিন্টেড পাড় বসিয়ে নিতে পারো। পুরনো জামা ফেড হয়ে গেলে ব্লিচ করে টাই অ্যান্ড ডাই করে নিলেও একদম নতুন একটা লুক দেয়। যেই শেডটা ছিল সেটার থেকে এক শেড গাঢ় ডাই করলে ফেডিং আউটটার সঙ্গে মিলে একটা সুন্দর কালার এফেক্ট দেয়। বা একটা একদম পুরনো ডেনিম। বাড়িতে ব্লিচে এক রাত্তির চুবিয়ে রাখো। সকালে ওটাকে স্ট্রং ভাবে নিংড়ে দড়ি দিয়ে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখো। এবারে যেই যেই জায়গায় ক্রাশ পড়েছে সেখানে ব্লেড দিয়ে চিড়ে সুতোটা বের করে দাও। যেই জায়গাগুলো দেখবে পুরনো হওয়ার জন্য বেশি বড় ফুটো হয়ে যাচ্ছে সেগুলো লাইন দিয়ে নতুন কেনা সেফটিপিন দিয়ে আটকে নাও। খুব সুন্দর একটা গথিক লুক আসবে। যদি একটু শাইন আনতে চাও তাহলে টিচ বাটন খুব ঘন করে লাইন দিয়ে ডেনিমের সঙ্গে সেলাই করে নিতে পারো।
রোগা-মোটা মিথ
আমি মনে করি ফ্যাশনেবল হতে গেলে রোগা হওয়ার কোনও দরকার নেই। ইফ ইউ আর ফিট ইউ আর রেডি ফর এনিথিং। কিন্তু যদি তুমি আনফিট হও, কোনও কিছুই ভাল লাগবে না। শুধু ড্রেসিংয়ের সময়ে সমস্যার জায়গাগুলো ভাগ করে নিতে হবে। যেরকম আপার বাস্ট বা আন্ডার আর্মস ভারী হলে স্লিভলেস এড়িয়ে চলা উচিত। এরকম কিছু পরা উচিত যাতে কাঁধ ঢাকা থাকে। শ্রাগ টাইপের হলে ভাল। যারা একটু মোটা তাদের খুব টাইট ফিট বা বেলুন টপ এড়িয়ে চলা উচিত। নিজের চেহারা বুঝে বাল্ক বা প্লিটস এড়িয়ে চলো। সেইসঙ্গেই যগি গায়ের রং কালো হয়, গাঢ় রঙের দামাকাপড় বেছে নাও। লাইল্যাক, পিঙ্ক, পাউডার ব্লু এগুলো সবই ফর্সাদের জন্য।
এবার পুজোর রং ও ফ্যাব্রিক
এই পুজোয় ৩টে কালার সবথেকে বেশি চলবে। হট পিঙ্ক, পিস্তা গ্রিন আর পার্পল। তার সঙ্গে অল ন্যাচারাল মেটিরিয়ালস। র সিল্ক, র কটন, জর্জেট, শিফন। ব্রোকেড পোষাকে গ্ল্যমার যোগ করে। তবে লাইনিংয়ের কাপড় যেন মলমল বা সুতির হয়।

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. You can find out more by clicking this link

Close