শেফ অফ দ্য উইক: বিপুল মজুমদার

Update: October 7, 2012 20:15 IST

সতেরো বছর আগে স্কুলের গণ্ডী পেরিয়ে যখন বাড়িতে জানান হোটেল ম্যানেজমেন্ট পড়তে চলেছেন এবার, মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছিল মায়ের। তবে নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন বিপুল মজুমদার। রান্নাঘরকে ভালবেসে এই পেশায় আসা বিপুল মজুমদারের কাছে শেফদের ভূমিকা অনেকটা ডাক্তারদের মত। ডাক্তাররা যেরকম রোগের ধরণ বুঝে রোগীদের দিয়ে দেন সঠিক ওষুধ, শেফদেরও সেরকমই পছন্দ বুঝে মনুষের সামনে বেছে বেছে হাজির করতে হয়ে বিশেষ পদটিকে।

১৯৯৯ সালে কলেজ পাশ করেন। ২০০০ সালে কেরিয়ার শুরু। বিগত ১২ বছরে ভারতের বিভিন্ন বিখ্যাত হোটেলের হেঁসেল সামলানোর পাশাপাশি, পৃথিবীর রসনার ভাণ্ডার অন্বেষনে পাড়ি দেন বিদেশেও। কাজ নেন ক্রুজে। জাহাজে ঘুরতে ঘুরতেই লেবানন, ইটালি, মেক্সিকান খাবারের রহস্য উন্মোচন করেন। কলকাতার প্রথম সারির শেফ বিপুল মজুমদারের পছন্দ মূলত কন্টিনেন্টাল ফুড হলেও প্রয়োজনে ইন্ডিয়ান, ওরিয়েন্টাল, চাইনিজ, জাপানিজ সবকিছুই বানাতে হয় তাঁকে। তবে সবথেকে প্রিয় ইটালিয়ান। জানা গেল, ভোজনরসিক বাঙালিরও নাকি পছন্দের তালিকায় এক নম্বরে রয়েছে ইটালিয়ান। তাঁর অফুরন্ত কন্টিনেন্টাল কর্নার থেকেই একটি রেসিপি ভাগ করে নিলেন আমাদের সঙ্গে।

ম্যারিনেটেড কটেজ চিজ বেকড উইথ অ্যালফান্সো অ্যান্ড গ্রিয়ের

কী কী লাগবে

আম: ৮০ গ্রাম (খোসা ছাড়ানো পাকা অ্যালফান্সো স্লাইস)
পনির: ৯০ গ্রাম
ম্যাঙ্গো পেস্তো: ৪০ গ্রাম
গ্রিয়ের চিজ: ৪০ গ্রাম
মামারোসা সস: ৫০ গ্রাম (২৫ গ্রাম চিজ সস ও ২৫ গ্রাম টমেটো সসের মিশ্রণ)

ম্যাঙ্গো পেস্তোর জন্য

অ্যালফান্সো আম: ২০ গ্রাম
টাটকা ধনেপাতা: ১০ গ্রাম
কাঁচালঙ্কা: ২টো
কাসুন্দি: ৫ মিলিলিটার
মধু: ২ মিলিলিটার
লেবুর রস: ১ চা চামচ
ব্রাউন সুগার: ৪ গ্রাম
তাবাস্কো সস: ২ থেকে ৩ ফোঁটা
গোলমরিচ গুঁড়ো: পরিমান মত
নুন: স্বাদ মত

কীভাবে বানাবেন

পনির ম্যাঙ্গো পেস্তো দিয়ে ম্যারিনেড করে নিন। এবারে একটা ওভেন প্রুফ পাত্রে মামারোসা সস ছড়িয়ে দিন। এরপর প্রথমে পনির, তারওপর ম্যাঙ্গো স্লাইস, গ্রিয়ের চিজ এইভাবে লেয়ারে সাজিয়ে বেক করে নিন। পনির বেকড হয়ে গেলে ও চিজ গলে ভালভাবে মিশে গেলে ওভেন থেকে বার করে পরিবেশন করুন।






















Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।