মধুর `চেল`-এ চন্দ্রিমা

Last Updated: Friday, September 28, 2012 - 01:29

প্রমা মিত্র
হিমালয়ের শিবালিক শৃঙ্গের ছোট্ট শহর চেল কিছুটা একাসেরে। হিমাচল প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত হলেও এর মূল ভূখণ্ড থেকে চিরকাল নিজেকে আলাদা রাখতেই ভালোবেসেছে চেল। আর ঠিক এখানে এসেই যেন থমকে গিয়েছে সময়। ঠিক যেভাবে সদ্য বিবাহিত দম্পতিরা গোটা দুনিয়া থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে মুধুচন্দ্রিমায় কাটানো সময়টাকে চিরকাল মনের মণিকোঠায় ধরে রাখতে চান। চারিদিকে ঘন অরণ্যের পরম মমতায় লালিত, হিমালয়ের কোলে শিশুর সারল্যে হাত পা ছড়িয়ে খেলা করা চেল-এর ভার্জিন বিউটি হতে পারে আপনার মধুচন্দ্রিমার অনাবিল অনন্দের সাক্ষী।
চেল শুধু প্রকৃতির আদরে বেড়ে ওঠা এক শৈলশহরই নয়। ইতিহাসের পাতায়ও আজন্ম লালিত চেল ছিল উনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে পাতিয়ালার মহারাজা ভুপিন্দর সিংহের গ্রীষ্মকালীন প্রমোদহ্লাদের প্রাণকেন্দ্র। তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় ১৮৯৩ সালে চেল-এ গড়ে ওঠে পৃথিবীর উচ্চতম ক্রিকেট গ্রাউন্ড। মাটি থেকে ২৪৪৪ মিটার উপরে হিমালয়ের কোলে ঘন সবুজ ক্রিকেট গ্রাউন্ড চেল-এর অন্যতম আকর্ষণ। শুধু তাই নয়। গ্রীষ্ককালীন আমোদ আহ্লাদে মত্ত হয়েই কোনও এক রাতে সিধ বাবার স্বপ্নাদেশও পান মহারাজা। সেই স্বপ্নাদেশ অনুসারেই সিধ বাবার বোধি লাভের বিশেষ স্থানে তাঁর প্রাসাদ স্থানান্তরিত করেন তিনি। গড়ে তোলেন বিখ্যাত সিধ বাবা মন্দির।
যদি আপনার হাতে সময় থাকে তাহলে অবশ্যই চেল থেকে মাত্র ৪৫ কিলোমিটার রডোডেনড্রন ঘেরা পথ অতিক্রম করে চলে যান পিচ ফলের স্বর্গরাজ্য ফাগুতে। ইন্দো-তিব্বত সীমান্তের ছোট্ট গ্রাম ফাগু। দেওদার ও স্প্রুস গাছের ছায়ায় বেড়ে ওঠা ফাগুর যেদিকেই তাকাবেন বরফ ঢাকা হিমালয়ের পাঁচিলে ঘেরা ঘন সবুজ উপত্যকা হাতছানি দিয়ে কাছে ডাকবে আপনাকে। শান্ত হিমালয়ের নীরবতার সঙ্গে অনণ্যের নিবিড়তা উপভোগ করতে চাইলে অবশ্যই ঘুরে আসুন হিমালয়ান রেঞ্জের অন্যতম ন্যাশনাল পার্ক কুরফি। সবুজের মাঝখানে হঠাত্ করে দেখা মিলতেই পারে কুঁড়ে কোনও বুড়ো ভল্লুক বা চঞ্চল মাস্ক ডিয়ারের। বন্য সৌন্দর্য আস্বাদন করতে করতেই পাহাড়ের গা বেয়ে উঠে যেতে পারেন মাহাসু শৃঙ্গে। চূড়ো থেকে দেখা দিগন্ত বিস্তৃত সিমলার মায়াবী রূপেই থেমে থাকুক আপনাদের এক পাহাড় ভালোবাসার মধুচন্দ্রিমার দিনগুলি।
যাওয়ার পথ: কলকাতা থেকে কালকা মেল ধরে কালকা স্টেশনে নেমে শিবালিক টয় ট্রেন ধরে সিমলা গিয়ে গাড়িতে চেল যেতে পারেন। অথবা অমৃতসর মেল ধরে অমৃতসর স্টেশনে নেমে সড়ক পথেও চেল যাওয়া যায়।
থাকার হদিশ: চেল-এ থাকার জন্য প্যালেস ছাড়াও বিভিন্ন দামের বেসরকারি হোটেল, রিসর্ট বা পাহাড়ের কোলে কাঠের কটেজও রয়েছে। মোটামুটি ১৬০০ থেকে ৩০০০ টাকার মধ্যে লাক্সারি, ডিল্যাক্স ডাবল বেডরুম পেয়ে যাবেন। স্পেশ্যাল হনিমুন স্যুট নিতে চাইলে খরচ একটু বেশি পড়বে। তবে ফাগুতে থাকতে চাইলে আর একটু বেশি অপশন খোলা থাকবে। আপেল বা পিচ ফলের বাগানের মাঝে মাঝে গড়ে ওঠা কটেজ স্টাইলের হোটেলের খরচা প্রায় একই রকম।



First Published: Tuesday, May 28, 2013 - 20:16


comments powered by Disqus