পোশাকে মোড়া বড়দিন

Update: December 24, 2012 22:15 IST

প্রমা মিত্র
আকাশে, বাতাসে এখন পার্টি পার্টি গন্ধ। শেষলগ্নে ঠান্ডাও পড়েছে বেশ জাঁকিয়ে। তবে মন পার্টি পার্টি হলেও শেষমুহূর্তে পোশাক ঠিক করে উঠতেই হিমসিম দশা সকলের। একে তো ঠান্ডাটা পড়ব পড়ব করেও পড়ছিল না। তায় আবার ২১ ডিসেম্বরের পর প্রাণে বাঁচলে তবে না ক্রিসমাস! যতই বিজ্ঞানীরা গুজব-টুজব বলে আশ্বাস দিক না কেন কিছু একটা হয়ে-টয়ে গেলে? তাই পার্টি প্ল্যান করে কাজ নেই বাবা। কিন্তু একী? কিছুই তো হল না! পার্টি পরিপন্থিদের মুখে ছাই দিয়ে জানে বেঁচে গেলাম যে! আর গত দু`দিন ধরে ঠান্ডাও পড়েছে বেশ জাঁকিয়ে। শেষমেশ পার্টি পার্টি মন হলেও কী পরবেন তাই ভেবেই মাথায় হাত। আলমারি হাতড়েও বেরোচ্ছে না জুতসই কিছু? চিন্তা নেই। পুরনো পার্টি ড্রেসের সঙ্গেই চরিয়ে নিন রংচঙে মারকাটারি স্টকিংস। মনে রাখবেন মিউট ড্রেস, রংচঙে স্টকিংস আর কালো হেভি বুট্‌সই এবার কাঁপাতে চলেছে বর্ষবরণ পার্টি।

খোলামেলা পোশাকে শীতে কাঁপতে কাঁপতে পার্টিতে জুবুথুবু হয়ে বসে থাকা মানেই কিন্তু আপনি আউট অফ ফ্যাশন। তাই প্রথমেই আউট হল্টার নেক, অফ শোল্ডার বা খোলা পিঠের পার্ঠি ড্রেস। তার বদলে বেছে নিন ফুলস্লিভ শর্ট ড্রেস অথবা এককাট-কাউল নেকের লম্বা সোয়েটার। পরে নিতে পারেন গলাবন্ধ লম্বা জ্যাকেটও। তবে যাই পরুন না কেন সেটা যেন হয় একরঙা। আর রঙের মধ্যে অবশ্যই প্রথম তিনে থাকবে কালো, সাদা ও ছাইরঙা পোশাক। পোশাকের সঙ্গে মানানসই কালো বা লাল রঙের সরু বেল্টও লাগিয়ে নিতে পারেন কোমরে।

পোশাক বাছা হয়ে গেলেই নজর দিন স্টকিংসে। পোলকা ডট, জংলি প্রিন্ট, আড়াআড়ি স্ট্রাইপ বা জমকালো চেকসের যে কোনও রঙের, যে কোনও রকম, মনপসন্দ স্টকিংস বেছে নিন। ম্যাচিংয়ের পরোয়া না করেই বাছতে হবে স্টকিংস। সঙ্গে অবশ্যই কালো বুট বা সরু হিলের স্টিলেটো। আর যদি রঙচঙে স্টকিংস একান্তই স্টকে না থাকে তহলে বাছতে পারেন লাল অথবা কালো। তবে কালো স্টকিংসের সঙ্গে কিন্তু কালো জুতো কখনই নয়। সেক্ষেত্রে বেছে নিতে হবে লালকেই। কালো শর্ট ড্রেস, কালো স্টকিংস আর লাল বুটও হতে পারে অসাধারণ পার্টি ড্রেস।

তবে আপাদ মস্তক যদি রঙের ছোঁয়া একান্তই না আনতে পারেন তবে কিন্তু মাফলার আর টুপি দিয়ে বাজিমাত করতে হবে শেষবেলায়। শুধু মনে রাখবেন মাফলার, টুপি আর গ্লাভ্‌স যেন হয় একই রঙের। ধরুন ছাই রঙা পোশাকের সঙ্গে বাছতে হল কালো স্টকিংস। জুতো, বেল্ট সবই হল কালো। তাহলে গলায় জরিয়ে নিন টকটকে লাল মাফলার। সঙ্গে থাক লাল টুপি আর গ্লাভ্‌স। আর আইসিং অন দ্য টপ করতে সরু একফালি লাল পেটেন্ট লেদারের বেল্ট। রংচঙে একটুকরো স্কার্ফ, মাফলার অথবা শ্রাগ। শীতলতম শীতের রাতে একটু উষ্ণতা আনতে মন কেমন করা গ্রে-স্কেল পোশাককেই রঙের বাহার জাগিয়ে নিন। এটাই হোক এবারের নতুন বছরের শপথ।



Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।