পার্টির রাতে ডুমসডে কন্সপিরেসি

অক্টোবর যদি হয় বাঙালির উত্‍সবের মরসুম, তবে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহকে বলাই যেতে পারে আনন্দ সপ্তাহ। ২৫ থেকে ৩১, একটু বাড়িয়ে নিলে জানুয়ারির মাঝামাঝি। পার্টির আমেজ থেকে কি আর এত সহজে বেরনো যায়? তাই এই কয়েকদিন পার্টির মাদকতা চাই রোজ রাতেই।

Updated: Dec 24, 2012, 09:44 PM IST

প্রমা মিত্র
অক্টোবর যদি হয় বাঙালির উত্‍সবের মরসুম, তবে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহকে বলাই যেতে পারে আনন্দ সপ্তাহ। ২৫ থেকে ৩১, একটু বাড়িয়ে নিলে জানুয়ারির মাঝামাঝি। পার্টির আমেজ থেকে কি আর এত সহজে বেরনো যায়? তাই এই কয়েকদিন পার্টির মাদকতা চাই রোজ রাতেই। বন্ধুদের বাড়িতে আমোদপ্রমোদের মাঝেই নিজের বাড়িতেও ডেকে নিতে হবে বন্ধুদের। সেদিন কীভাবে সাজাবেন নিজের ছাদটাকে? সান্টাক্লজ, ক্রিসমাস ট্রি, স্টারস, কৃত্রিম বরফকুচি আর রূপকথার গপ্পোতো অনেক হল। কল্পনার ডানা ছেঁটে একেবারে বাস্তব থিমেই সাজিয়ে তুলুন আপনার বর্ষশেষের পার্টি।
ভাবুন তো সারা বছর কি একবারের জন্যও আপনার মনে হয়নি বছর শেষটা দেখতে পাবো তো এবার? দশ দিন আগেই ফুরিয়ে যাবে না তো সবকিছু? জানি অঙ্কের হিসেব মোটেও বলছে না এই বছরটাই জীবেনর শেষ, তাও ঈশ্বর কণার তল পেতেও তো কালঘাম ছুটে গেল বিজ্ঞানীদের। তবে কি সত্যিই...? তাই ২১ ডিসেম্বরের(ওটাই ছিল মায়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী পৃথিবীর শেষ দিন) পর থেকে যেন নতুন উদ্দীপনায় বাঁচছেন সকলে। যাক। অঘটন যখন ঘটলই না, বাঁচার আনন্দে চুটিয়ে ডুমসডেকেই করে ফেলতে পারেন আপনার থিম। আজই বোধহয় শেষ ভাবতে ভাবতে নতুন করে জীবন পাওয়ার উদ্দীপনা। সেই বিশেষ মুহূর্তকে স্বরণে রেখেই সেলিব্রেশন অফ লাইফই হোক আপনার পার্টির থিম। এমনই থিম যা বাচ্চা থেকে বুড়ো ছুঁয়ে যাবে সকলের মন। বাঁচার আনন্দের থেকে বড় আনন্দ আর কিই বা আছে?

একটু আঁধারি পরিবেশ তৈরি করতে পারেন আপনার ছাদে। সাদা কাগজের মধ্যে পৃথিবীর মানচিত্র এঁকে লাইন বরাবর আলপিন ফুটিয়ে ছোট ছোট ছিদ্র করে নিন। এবারে গোল বলের মধ্যে ছোট ছোট আলো ঢুকিয়ে বলটা মুড়ে দিন মানচিত্র আঁকা কাগজে। আঁধারি পরিবেশের মধ্যে ছাদের ঠিক মাঝখানে ঝুলিয়ে রাখুন আপনার পৃথিবী। অবশ্যই বলের সব আলো নিভিয়ে রাখবেন। দেওয়ালে ঝুলিয়ে দিন মায়ান ক্যালেন্ডারের ওয়াল হ্যাংগিং। অন্য দেওয়ালে ঝুলিয়ে দিন একটা বড় ঘড়ি। পার্টিতে চালিয়ে রাখুন মনমরা দুঃখের গান। ঘড়িতে চারটে চল্লিশ বাজার একটু আগেই নিয়ে আসুন আপনার সান্টাকে। একগাল হাসি মুখে ঝোলা থেকে বার করে আনুক সেই বিশেষ ম্যাজিক কাঠি। যার ছোঁয়ায় কেই একা নয়, বেঁচে যাবে পৃথিবীটাই। গোল বলের গায়ে ছুঁয়ে দিতেই জ্বলে উঠুক বলের ভিতরের সব আলো। স্পষ্ট হয়ে উঠুক পৃথিবী। আলো ঝলমলে পৃথিবীর সঙ্গে মানিয়ে মনমরা গানও বদলে চালিয়ে দিন খুশির সুর। আস্তে আস্তে জালিয়ে দিন ছাদের সব আলো। ক্রিসমাস ট্রি, স্টার সবকিছুর আলোয় ঝলমল করে উঠুক পার্টির রাতটা। একটু বেশি খাটতে পারলে রাখতে পারেন একটা ফিনিক্স পাখিও। যার ডানা ঘিরে থাকবে আপনার পৃথিবী। জ্বলে যাওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তেই সান্টার ছোঁয়ায় বেঁচে যাবে পৃথিবী।