নির্জন ল্যান্সডাউন

হঠাৎ হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে? দু-একদিনের জন্য। কোনও পরিচিত জায়গা নয়। থাকবে না কোলাহল। পৌঁছবে না কোনও ফোন কল। শুধু প্রকৃতির নির্জনতা উপভোগ করা। তাহলে আপনার নেক্সট ডেস্টিনেশন উত্তরাখণ্ডের ল্যান্সডাউন। উত্তরাখণ্ডের গেটওয়ে কোটদ্বার থেকে ঘণ্টা খানেকের পথ। পাইনের জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে পথ। আঁকা বাঁকা পথের শেষে সাজানো ক্যানটনমেন্ট শহর ল্যান্সডাউন।

Updated: Oct 15, 2012, 03:21 PM IST

চিত্ররূপ চক্রবর্তী
হঠাত্‍‍‍ হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে?  দু-একদিনের জন্য। কোনও পরিচিত জায়গা নয়। থাকবে না কোলাহল। পৌঁছবে না কোনও ফোন কল। শুধু প্রকৃতির নির্জনতা উপভোগ করা। তাহলে আপনার নেক্সট ডেস্টিনেশন উত্তরাখণ্ডের ল্যান্সডাউন। উত্তরাখণ্ডের গেটওয়ে কোটদ্বার থেকে ঘণ্টা খানেকের পথ। পাইনের জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে পথ। আঁকা বাঁকা পথের শেষে সাজানো ক্যানটনমেন্ট শহর ল্যান্সডাউন। জিপ স্ট্যাণ্ড থেকে বেশ কিছুটা উপরে টুরিস্ট রেস্ট হাউস। সাজানো বাগানের মধ্যে দোতলা বাড়ি। আশেপাশে কয়েকটা কটেজ। সামনে বড় বড় পাইন গাছ। আর দূরে সাজানো ল্যান্সডাউন শহর। রাত নামলে টিম টিমে আলোয় সেজে ওঠে প্রাচীণ শহর। দূর থেকে ভেসে আসে দুর্গা মন্দিরের আরতির ধ্বনি। ব্রিটিশদের তৈরি শহর, আজ গোর্খা টেরিটোরিয়াল আর্মির হেডকোয়াটার্স। কিছুটা এগিয়ে পথের ধারে প্রাচীণ চার্চ। সামনে দাঁড়ালেই যেন ইতিহাস কথা বলে। পায়ে পায়ে আরও কিছুটা ওপরে উঠে গেলেই টিপ এন টপ। ল্যান্ডডাউনের সানরাইজ পয়েন্ট। সামনে একশো আশি ডিগ্রি জুড়ে নানা পর্বতমালা। চৌখাম্বা, ত্রিশূল, কেদারডোম সহ নানা জানা-অজানা শৃঙ্গ। সূর্যের প্রথম কিরণ যখন শঙ্গগুলোর ওপর পড়ে, তখন মনটা কোথায় হারিয়ে যায়। তবে সূর্যাস্ত উপভোগ করতে হলে থাকতে হবে টিপ এন টপের কটেজ বা লগ হাটে। পরদা সরিয়ে কাঁচের জালনা দিয়ে দেখা যায় পাহাড়ের ওপর আলোর খেলা। শহরের আরেক প্রান্তে আর্মি হেডকোয়াটার্স। সংরক্ষিত এলাকা হলেও মিউজিয়ামটি ঘুরে দেখার অনুমতি মেলে। একবার ভিতরে পা দিলে মনে হবে, কয়েকশো বছর যেন পিছিয়ে গেছে। আর পাইন বনের ফাঁক দিয়ে পথ গিয়েছে লেকের দিকে। সবুজ জলে ভেসে বেড়াচ্ছে রাজ হাঁস। বোটিং-এরও ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু সন্ধে হয়ে আসছে। ভালো করে চাঁদরটা জড়িয়ে রেস্ট হাউসের দিকে পা বাড়ানো যাক। বেশ কিছুটা পথ যেতে হবে তো।
যাওয়ার পথঃ দিল্লি থেকে গাড়ি ভাড়া করে যাওয়া যায়। সময় লাগে পাঁচ ঘণ্টা। হাওড়া থেকে দুন এক্সপ্রেসে নাজিবাবাদ নেমে ট্রেন পাল্টে কোটদ্বার পৌঁছনো যায়।
সেখান থেকে শেয়ারের জিপে ল্যান্সডাউন। জিপ স্ট্যাণ্ড ঘোরার জিপ ভাড়া পাওয়া যায়।
থাকার হদিশঃ গাড়োয়াল মণ্ডল বিকাশ নিগমের দুটি টুরিস্ট লজ রয়েছে। প্রথমটিতে দ্বিশয্যার ভাড়া আটশো থেকে দুহাজার টাকা। কটেজের ভাড়া আঠারোশ টাকা।
টিপএনটপে কটেজের ভাড়া আঠারোশ টাকা। বেশ কয়েকটি হোটেল ও রিসর্টও রয়েছে ল্যান্সডাউনে।