মাল্‌ড ওয়াইন

Update: December 24, 2012 20:52 IST

খুব ভোরে সান্টা এসে ঘুরে গিয়েছে। মোজা উল্টে তার পাঠানো গিফটের মোড়ক খুলে ফেলাও শেষ। ক্রিসমাস লাঞ্চ শেষে পড়ে আসা শিতের বেলায় এক কাপ ভালবাসার উষ্ণ ছোঁয়া, মাল্‌ড ওয়াইন। এর গন্ধে-রন্ধ্রে বড়দিন। দারচিনি-এলাচ-কমলালেবুর অম্লমধুর গন্ধের সঙ্গে ফ্রুটি ওয়াইনের কষাটে ককটেল। একটু ওয়াইনের থেকে একটু ঘন, একটু উষ্ণ। গ্লাভ্‌সের মুঠোয় এর উষ্ণ স্পর্শ ছাড়া অসম্পূর্ণ থেকে যাবে বড়দিনের দীর্ঘ সন্ধের আমেজি আড্ডা।

কী কী লাগবে

কমলালেবু- ৪টে
বেশ বড় পাতিলেবু- ২টো
মিহি চিনি (সাদা/ক্যাস্টর/ব্রাউন)- ২০০ গ্রাম
ছোট এলাচ- ৬টা
দারচিনি- ১টা
জায়ফল- অর্দ্ধেক
তেজ পাতা- ৩টে
স্টার আনিস- ২টো
ওয়াইন- ২ বোতল (ইটালিয়ান শিয়ান্তি বা যে কোনও পছন্দসই ওয়াইন হলেই চলবে)

কীভাবে বানাবেন:
খোসা সমেত কমলালেবু আর পাতিলেবু ৪ টুকরো করে নিন। একটা মোটা বেসের সসপ্যানে চিনি দিন। ফলগুলোও দিয়ে দিন। ওয়াইন ঢালুন। জায়ফল আর স্টার আনিস বাদে বাকি সব মশলা দিয়ে দিন। মাঝারি আঁচে বসিয়ে নাড়ুন, যতক্ষণ না চিনি মিশে যায়। মিশণের উপরেই গ্রেটারে জায়ফল গ্রেট করুন ১২/১৪ বার। স্টার আনিস ও দিন। দেখবেন যেন না ফোটে। ফুটলেই কিন্তু ওয়ান থেকে অ্যালকোহল বাষ্পের সঙ্গে উড়ে যাবে। চিনি গুলে গেলে নিবু আঁচে রেখেদিন যতক্ষণ না মিশ্রণটি খানিকটা ঘন হয়। এর জন্য আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগবে। মাঝের মধে নাড়বেন।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।