জীবনের সন্ধানে বৃহস্পতির উপগ্রহ ইউরোপা অভিযানে প্রস্তুত হচ্ছে নাসা

এবার প্রাণের সন্ধানে সৌরমণ্ডলের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতির উপগ্রহ ইউরোপা অভিযানের প্রস্তুতি শুরু করল নাসা। নাসার বিজ্ঞানীদের মতে ইউরোপার হিমায়িত মহাসাগরে জীবনের উপস্থিতির সম্ভাবনা প্রবল। বুধবার নাসার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে সব কিছু পরিকল্পনা মাফিক চললে ২০২০ সালে ইউরোপা অভিযান প্রায় স্থির।

Updated By: Jun 19, 2015, 03:34 PM IST
 জীবনের সন্ধানে বৃহস্পতির উপগ্রহ ইউরোপা অভিযানে প্রস্তুত হচ্ছে নাসা

ওয়েব ডেস্ক: এবার প্রাণের সন্ধানে সৌরমণ্ডলের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতির উপগ্রহ ইউরোপা অভিযানের প্রস্তুতি শুরু করল নাসা। নাসার বিজ্ঞানীদের মতে ইউরোপার হিমায়িত মহাসাগরে জীবনের উপস্থিতির সম্ভাবনা প্রবল। বুধবার নাসার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে সব কিছু পরিকল্পনা মাফিক চললে ২০২০ সালে ইউরোপা অভিযান প্রায় স্থির।

বৃহস্পতির 'চাঁদ' ইউরোপা প্রাণের উপস্থিতির উপযুক্ত স্থান বলে বহুদিন আগে থেকেই স্বীকৃত। বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, এই উপগ্রহ আসলে হিমায়িত এক মহাসমুদ্রে আবৃত। পৃথিবীর উত্তর মেরুতে ভূগর্ভস্থ্য জলের সঙ্গে যার পার্থক্য বিশেষ নেই। পৃথিবীতে ওই ধরণের চরম অবস্থাতেও প্রাণের উপস্থিতির বহু প্রমাণ মিলেছে। আর এই প্রমাণগুলিই আশা জোগাচ্ছে বিজ্ঞানীদের মনে। নাসা মনে প্রায় সমতুল্য পরিস্থিতিতে ইউরোপাতেও প্রাণ থাকতে পারে।

এমনিতে এই ধরণের পরিস্থিতিতে যে কোনও ধরণের জীবনেরই বসবাস অত্যন্ত কঠিন, কিন্তু একেবারে অসম্ভব নয়। উত্তর মেরুতে এই ধরণের পরিস্থিতিতে কিছু মাইক্রোবসের উপস্থিতি টের পাওয়া গেছে। নাসার আশা এমনই প্রাণের সন্ধান হয়ত পাওয়া যাবে ইউরোপাতেও।  

মাছের মত কিছু 'সফট রোবোট' ইউরোপার সমুদ্রে পাঠাতে চান বিজ্ঞানীরা। প্রাণের অনুসন্ধানে ইউরোপার বুকে সাঁতরে বেরাবে এই রোবোটগুলো।

প্রাথমিকভাবে যে মহাকাশযানটিকে ইউরোপার উদ্দেশ্য পাঠানোর পরিকল্পনা চলছে সেটি এই উপগ্রহের বদলে বৃহস্পতির কক্ষপথ ধরেই চক্কর কাটবে। চেষ্টা চালাবে যতটা কাছ থেকে সম্ভব ইউরোপার পৃষ্ঠের ছবি ও সেই সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করার। ইউরোপার সাঙ্ঘাতিক রেডিয়েশন থেকে বাঁচতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইউরোপার কক্ষপথে ওই মাত্রায় বিকিরণ সহ্য করে দীর্ঘদিন কোনও মিশন চালানো অসম্ভব।

যদি ইউরোপার জমাট বাঁধা বরফের তলায় পর্যাপ্ত জলের উপস্থিতি টের পাওয়া যায়, তাহলে অরবাইটারটি সেই জলের কেমিক্যাল কম্পোজিশন বোঝার চেষ্টাও করবে।

এখনও পর্যন্ত এই মিশনের জন্য ৩০০ লক্ষ মার্কিন ডলার ধার্য করেছে নাসা। তবে, এই মিশনের বাস্তবায়নের জন্য এখনও বহু পরিকল্পনা ও দীর্ঘ কয়েক বছর সময় প্রয়োজন।

 

 

 

.