পামকিন পাই

Update: October 31, 2012 19:08 IST

আমাদের ভূত চতুর্দশীর বিদেশি নাম হ্যালোউইন। প্রতিবছর ৩১ অক্টোবর সারা বিশ্বে পালিত হয় হ্যালোউইন। ভূতুরে ভাবে গার্নিশ করা উপাদেও সব কেক, মিষ্টি, কুকিজ হ্যালোউইন পার্টির মূল আকর্ষণ। পামকিন পাই তারই একটি। যার বাংলা করলে দাঁড়ায় মিষ্টি কুমড়োর পিঠে। আজই বানিয়ে না উঠতে পারলেও রেসিপিটে সযত্নে তুলে রেখে দিন পৌষ সংক্রান্তির জন্য। পাটিসাপটা, পুলিপিঠের ভরা বাজারে শীতের উপাদেও মিষ্টি কুমড়োর পিঠে বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিন সবাইকে।

কী কী লাগবে

ক্রাস্টের জন্য

ময়দা: সোয়া ১ কাপ
নুন: আধ চা চামচ
চিনি: ১ টেবিল চামচ
সাদা মাখন: ৬ টেবিল চামচ (১/৪ ইঞ্চি পিস করে নিতে হবে)
ভেজিটেবিল শর্টেনিং: ১/৪ কাপ (২ টুকরো করে নিতে হবে) যে কোনও মলে টিনড ভেজিটেবিল শর্টেনিং পাওয়া যায়
ঠান্ডা ভদকা: ২ টেবিল চামচ
ঠান্ডা জল: ২ টেবিল চামচ

ফিলিংয়ের জন্য

ঘন ক্রিম: ১ কাপ
ঘন দুধ: ১ কাপ
গোটা ডিম: ৩টে বড়
ডিমের কুসুম: ২টো
ভ্যানিলা এসেন্স: ১ চা চামচ
মিষ্টি কুমড়োর পিউরি: ১ টিন
মিষ্টি কুমড়ো: ১ কাপ
চিনি: ৩/৪ কাপ
মেপল সিরাপ: ১/৪ কাপ
আদা কোরা: ২ চা চামচ
দারচিনি গুঁড়ো: আধ চা চামচ
নুন: ১ চা চামচ

কীভাবে বানাবেন

ক্রাস্ট: ফুড প্রসেসরে ৩/৪ কাপ ময়দা, নুন, চিনি একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। একসঙ্গে মিশে গেলে মাখন ও ভেজিটেবিল শর্টেনিং মিশিয়ে একসঙ্গে ভাল করে মেখে নিন। এবারে ফুড প্রসেসর থেকে বার করে নিয়ে বাকি ময়দাটা দিয়ে আবার মেখে নিন। ময়দার মিশ্রণে জল ও ভদকা মিশিয়ে মাখা ময়দাটাকে ক্রমাগত ফোল্ড করতে থাকুন যতক্ষণ না আঠাল হয়ে আসছে। এবারে ময়দা মাখা থেকে ৪টে চ্যাপ্টা ডিস্ক আকারে গড়ে নিন। ডিস্কগুলো প্লাস্টিক দিয়ে মুড়ে ফ্রিজে ৪৫ মিনিট থেকে ২দিন পর্যন্ত রেখে দিন।

ময়দার ডিস্কগুলো ফ্রিজ থেকে বার করে শুকনো ময়দার মধ্যে রোল করে নিন। পাই প্লেটের মধ্যে ময়দার রোল রেখে রোলগুলো খুলে দিন। এমনভাবে যেন প্লেট থেকে কিছুটা বাইরে ঝুলে থাকে। আলতো হাতে সাইডটা ধরে অন্য হাতে পাই প্লেটের মধ্যে মৃদু চাপ দিয়ে ফোল্ড করে বসিয়ে দিয়ে ১৫ মিনিট ফ্রিজে রেখে দিন।

ওভেন ৪০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে প্রি-হিট করে নিন। ফ্রিজ থেকে পাই প্যান বার করে ফয়েলের ওপর রেখে বেকিং শিটে ১৫ মিনিট বেক করে নিন। ১৪ মিনিট পর বার করে প্লেট ঘুরিয়ে দিয়ে আরও ১০ মিনিট বেক করুন যতক্ষণ না ক্রাস্ট সোনালি রং ধরছে আর মুচমুচে হচ্ছে।

ফিলিং: যতক্ষণ ক্রাস্টটা বেক হচ্ছে, ক্রিম, দুধ, ডিম, ডিমের কুসুম, ভ্যানিলা এসেন্স একটা বাটিতে মিশিয়ে নিন। এবারে মিষ্টি কুমড়োর পিউরি, মিষ্টি কুমড়ো, চিনি, মেপল সিরাপ, আদা কোরা, দারচিনি গুঁড়ো, নুন একটা বড় ডেকচিতে মাঝারি আঁচে ৫ থেকে ৭ মিনিট রান্না করে নিন। ক্রমাগত নাড়তে থাকবেন। কুমড়ো ম্যাশড হয়ে ঘন ও চকচকে না হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন। এবারে আগুন থেকে নামিয়ে ক্রিমের মিশ্রণ কুমড়োর মধ্যে মিশিয়ে নিন।

ক্রাস্টে কুমড়োর মিশ্রণ ঢেলে দিন। প্রথমে ১০ মিনিট বেক করুন। এবারে ওভেনের তাপমাত্রা ৩০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে নামিয়ে এনে আরও ১০ মিনিট বেক করুন যতক্ষণ না মিশ্রণ ক্রাস্টের গায়ে ভাল করে লেগে যাচ্ছে। নামিয়ে নিয়ে ঠান্ডা করে নিন।









Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।