শীতের সান্দাকফু

শীতের দার্জিলিং। গরম কফির কাপে বার বার চুমুক দিয়েও ঠাণ্ডা যাচ্ছে না। বিকেল থেকে একটানা বৃষ্টি। তার মানে সান্দাকফুতে তুষারপাত হচ্ছে। পরদিন সকালের জিপেই সোজা মানেভঞ্জন। ঘুম, সুখিয়াপোখরি পেরিয়ে পাহাড়ি রাস্তা। ঘণ্টা চারেক সময় লাগে। মানেভঞ্জনই সান্দাকফু ট্রেকের স্টার্টিং পয়েন্ট। বিকেলে মানেভঞ্জনের মনাস্টিতে কিছুটা সময় কাটানো। রাতে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়াই ভালো। পরদিনের ট্রেক কিন্তু কম রাস্তা নয়।

Updated: Oct 7, 2012, 09:57 PM IST

চিত্ররূপ চক্রবর্তী
শীতের দার্জিলিং। গরম কফির কাপে বার বার চুমুক দিয়েও ঠাণ্ডা যাচ্ছে না। বিকেল থেকে একটানা বৃষ্টি। তার মানে সান্দাকফুতে তুষারপাত হচ্ছে।
পরদিন সকালের জিপেই সোজা মানেভঞ্জন। ঘুম, সুখিয়াপোখরি পেরিয়ে পাহাড়ি রাস্তা। ঘণ্টা চারেক সময় লাগে। মানেভঞ্জনই সান্দাকফু ট্রেকের স্টার্টিং পয়েন্ট।
বিকেলে মানেভঞ্জনের মনাস্টিতে কিছুটা সময় কাটানো। রাতে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়াই ভালো। পরদিনের ট্রেক কিন্তু কম রাস্তা নয়।
প্রথম দিন:
মানেভঞ্জন থেকে হাঁটা শুরু করে চিত্রে। প্রাচীণ রাজপ্রাসাদও রয়েছে। বিশ্রামের ফাঁকে ঘুরে নেওয়া যায়। দম নিয়ে ফের চড়াই ভাঙার লড়াই।
ঘণ্টা দুয়েকে পৌঁছে যাওয়া যায় মেঘমা। নামের সঙ্গে মিল রয়েছে জায়গাটার। সারাক্ষণই মেঘ-কুয়াশার খেলা চলতে থাকে। রাস্তার পাশের চায়ের দোকান।
গরম চায়ে এনার্জি বাড়িয়ে বাঁহাতি পথে আরও কিছুটা এগোলে তুমলিং। নেপালি গ্রাম। গ্রামের একটু বাইরে হোটেল। অতিতেয়থা অতুলনীয়।
দ্বিতীয় দিন:
সকালে কিছুটা সময় কাঞ্চনজঙ্ঘার ওপর সূর্যোদয় দেখে কাটানো। বেশি দেরি করলে চলবে না। আজ বেশ খানিকটা পথ চলতে হবে।
প্রথমে একটানা নেমে যাওয়া। গোটা পথটাই নেপালের মধ্যে দিয়ে। তবে নেই কাঁটা তারের বেড়া। নেই কোনও কড়াকড়ি। গৌরিবাস থেকে চড়াইয়ের শুরু।
একটানা উঠে গিয়ে কালাপোখরি। পোখরি মানে পুকুর। টলটলে জল পুরোটাই কালো। পোখরির ধারে বাঁধানো বসার জায়গা। কনকনে ঠাণ্ডায় বেশিক্ষণ বসার উপায় নেই।
তৃতীয় দিন: প্রথমে ঘণ্টাখানেক জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে পথ। তবে প্রায় সোজা রাস্তা। বিকেভঞ্জনে সাময়িক চা পানের বিরতি। দোকানের বেঞ্চে বসে সামনের দিকে তাকালেই সান্দাকফুর পথ।
প্রাণান্তকর চড়াই। আর গোটা পথটাই বরফে ঢাকা। রাতে তুষারপাত হয়েছে। শেষের দিকে হাঁটা যায় না। পা ঢুকে যায় নরম বরফে। কিন্তু হঠাত্‍‍‍ বাঁক নিয়ে ফুরিয়ে যায় পথ।
সাদা চাদরে ঢেকে রয়েছে সান্দাকফু। বিশ্রাম নিয়ে বিকেলে চারিদিক ঘুরে দেখা। হার হিম করা শীতের মধ্যেই কাঞ্চনজঙ্ঘার বুকে মায়াবি সূর্যাস্ত।