একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতি তুঙ্গে

Update: July 20, 2012 22:49 IST

আগামিকাল একুশে জুলাইয়ের সমাবেশকে ঘিরে তৃণমূল শিবিরে ব্যস্ততা তুঙ্গে। সমাবেশে যোগ দিতে দলের কর্মী-সমর্থকরা কলকাতায় এসে গেছেন ইতিমধ্যেই। দূরদূরান্ত থেকে যাঁরা আসছেন, তাঁদের সুবিধার জন্য দলের পক্ষ থেকে হাওড়া ও শিয়ালদায় দুটি বিশেষ শিবির গড়ে তোলা হয়েছে। সমাবেশকে ঘিরে যাতে কোনও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সেদিকে কড়া নজর রয়েছে প্রশাসনের। থাকছে কড়া পুলিসি প্রহরার বন্দোবস্ত।  

রাজ্যে সরকার গঠনের পর এটি তৃণমূলের দ্বিতীয় ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ। গতবছর ব্রিগেডে এই সমাবেশের আয়োজন করা হলেও, এবছর তা হতে চলেছে ধর্মতলায়।
সমাবেশে যোগ দিতে আসা তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী সমর্থকদের থাকার জন্য বিশেষ বন্দোবস্ত করা হয়েছে দলের তরফ থেকে। এজন্য বড়বাজারে মোট ৩৫ টি ধর্মশালা, মানিকতলায় ৬ টি এবং উল্টোডাঙায় ৩ টি ধর্মশালা ভাড়া নেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গ থেকে যে কর্মী-সমর্থকরা এসেছেন, তাঁরা সমাবেশের দিনকয়েক আগে এসে গিয়েছেন কলকাতায়। এদের সকলের থাকা-খাওয়ার জন্য শুধু ধর্মশালাগুলিই নয়, বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে সল্টলেক স্টেডিয়াম এবং নেতাজী ইন্ডোর স্টেডিয়ামেও।  শুধু রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই নয়, বাইরের রাজ্য থেকেও সমাবেশে যোগ দিতে আসছেন অনেকে। তাদের সুবিধের কথা মাথায় রেখে তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে শিয়ালদা ও হাওড়ায় দুটি শিবির গড়ে তোলা হয়েছে। কর্মী-সমর্থকরা স্টেশনে নামার পর সেখান থেকে তাঁরা কোথায় যাবেন, কোথায় থাকবেন, সমাবেশের দিন কীভাবে, কোন রাস্তা দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছবেন সেসম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাঁরা এখান থেকে পাবেন।
 
২১ জুলাইয়ের সমাবেশকে ঘিরে নিরাপত্তার বন্দোবস্তও আঁটোসাঁটো। সমাবেশে হাজির থাকার কথা দলের প্রায় সব সাংসদ ও বিধায়কদের। নিরাপত্তার খাতিরে মঞ্চের সামনের দিকে অনেকটা জায়গা ফাঁকা রাখা হচ্ছে। দফায় দফায় চলছে পুলিসি পরিদর্শন। সমাবেশের দিন ধর্মতলা চত্বর জুড়ে চল্লিশটি সুবিশাল স্ক্রিন বসানো হচ্ছে। থাকছে মাইকের বন্দোবস্ত। মূল সভামঞ্চ থেকে পার্ক স্ট্রিট, রানি রাসমণি রোড, বৌবাজার পর্যন্ত মাইক লাগানো হচ্ছে।
 

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।