পথ দুর্ঘটনার বলি একই পরিবারের ৩ জন

Update: April 15, 2012 20:19 IST

দিঘা থেকে কলকাতায় ফেরার সময় পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল একই পরিবারের ৩ জনের। রবিবার দুপুরে পূর্ব মেদিনীপুরের হেঁড়িয়া ফাঁড়ির বিরিঞ্চি ব্রিজে দু্ঘটনাটি ঘটেছে। নিহতেরা কলকাতার বরাহনগর থানা এলাকার সিঁথির বাসিন্দা। একটি ট্রাকের সঙ্গে গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃত্যু হয় তিনজনের। আরও দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের কলকাতার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পয়লা বৈশাখের দিন শ্বশুর বিমলেন্দু দাশগুপ্ত,  শ্বাশুড়ি রেনুকা দাশগুপ্ত, স্ত্রী ডোনা ও আড়াই বছরের ছেলে রায়ানকে সঙ্গে নিয়ে দিঘা বেড়াতে যান বরানগরের সিঁথির বাসিন্দা সৌমাল্য চক্রবর্তী। রবিবারই কলকাতায় ফেরার কথা ছিল। কিন্তু দুপুরে মেদিনীপুরের হেঁড়িয়া ফাঁড়ির কাছে বিরিঞ্চি ব্রিজের কাছে একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় গাড়িটির। সংঘর্ষে সৌমাল্য চক্রবর্তী এবং বিমলেন্দু ও রেণুকা দাশগুপ্ত মারা যান। আহত ডোনা চক্রবর্তী ও রায়ান চক্রবর্তীকে হেঁড়িয়া ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হলেও পরে কলকাতায় পাঠানো হয়।
 
সিঁথির গোপালচন্দ্র বোস লেনের একটি আবাসনে ৬ বছর ধরে স্ত্রী ও পুত্রকে নিয়ে থাকতেন বেসরকারি সংস্থার কর্মী সৌমাল্য। স্ত্রী ডোনা একটি নরম পানীয় সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। মাত্র তিনমাস আগে গাড়ি কিনেছিলেন সৌমাল্য। কাঁচা হাতেই চালকের আসনে বসেছিলেন সৌমাল্য। এমনটাই জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা। সৌমাল্যর পৈতৃক বাড়ি বাগবাজারে। রবিবার দুপুরে পুলিসের কাছেই দুঃসংবাদ পান সৌমাল্যর বাবা, মা। সিঁথিতে সৌমাল্যদের আবাসনের কাছেই একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন শ্বশুর বিমলেন্দু দাশগুপ্ত ও শ্বাশুড়ি রেণুকা দাশগুপ্ত।
 

 
 

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।