পুর বাজেট বরাদ্দের উপর ৩০ শতাংশ এমবার্গো

Update: March 31, 2012 10:28 IST

পুরসভার মোট বাজেট বরাদ্দের ৩০ শতাংশের ওপর এমবার্গো জারি করল পুর প্রশাসন। অর্থাত্‍ কাউন্সিলাররা যে পরিমাণ টাকা পাবেন, তার মধ্যে মাত্র ৭০ শতাংশ টাকা তাঁরা খরচ করতে পারবেন। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই ব্যবস্থা চালু থাকবে বলে পুরসভার তরফে সব কাউন্সিলরকে নির্দেশিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পুর বাজেট পেশ করা হয়েছিল গত ১৪ মার্চ। সেই মার্চ মাস না ফুরোতেই পুর কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে কাউন্সিলরদের হাতে পৌঁছে গিয়েছে এমবার্গো জারির নির্দেশ। এর ফলে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে বিরোধী কাউন্সিলারদের মধ্যে। ক্ষুব্ধ বিরোধী কাউন্সিলরদের অভিযোগ, এভাবে চললে এরপর উন্নয়নমূলক কাজ করাই অসম্ভব হয়ে পড়বে। পুরসভার বিরোধী দলনেত্রী রূপা বাগচির দাবি, রাস্তাঘাট সংস্কার, নিকাশী ব্যবস্থার উন্নয়ন সহ দৈনন্দিন নানা কাজে খরচ করার মতো অর্থ পুরসভার হাতে নেই। অথচ এরপরও কলকাতার বিভিন্ন পার্কের রং পরিবর্তন, কিংবা রাস্তায় রাস্তায় ট্রাইডেন্ট লাইট লাগানোর জন্য খরচ কেন করা হচ্ছে? বিভিন্ন খাতে পরিকল্পনামাফিক টাকা খরচ করছে না পুরসভা। ওয়েভার স্কিম সহ বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা সত্ত্বেও পুরসভার ঘরে কার্যত কোনও টাকাই আসছে না। ফলে আগামীদিনে অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে উঠতে চলেছে বলেও আশঙ্কা বিরোধী কাউন্সিলাদের। প্রায় একই বক্তব্য, কংগ্রেসের কাউন্সিলার মালা রায়েরও।

যদিও মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সাফাই, এমবার্গোর এই নির্দেশ নতুন ব্যাপার নয়। কিন্তু উন্নয়নের বদলে সৌন্দর্যায়নে কেন বাড়তি টাকা খরচ করছে পুরসভা, সেপ্রশ্নের জবাব মেয়র দেননি।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।