কাশ্মীরের তিনকন্যাকে হেনস্থার দায়ে অভিযুক্ত ছয়

কাশ্মীরের তিনকন্যাকে হেনস্থার দায়ে অভিযুক্ত ছয়

কাশ্মীরের তিনকন্যাকে হেনস্থার দায়ে অভিযুক্ত ছয়কাশ্মীরের প্রথম শুধু মেয়েদের রকব্যান্ড প্রগাশ-এর তিন কিশোরীকে ফেসবুকে ক্রমাগত খুন ও ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অপরাধে মোট ছ'জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করল জম্মু-কাশ্মীরের পুলিস। আইটি অ্যাক্টের ৬৬-এ ধারায় এই ৬ জনের বিরুদ্ধে এফ আই আর করা হয়েছে। ছ'জনকে সনাক্ত করা গেলেও এই ঘটনার সঙ্গে জরিত বেশ কিছু ব্যক্তির সঠিক হদিশ এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলে পুলিস সূত্রে খবর। জম্মু-কাশ্মীরের পুলিস এই তদন্ত প্রক্রিয়ায় গোপনীয়তা অবলম্বন করেছে। তবে তদন্ত দ্রুত গতিতেই চলছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই ফতোয়ার সঙ্গে ক্রমাগত খুন আর ধর্ষণের হুমকি কাছে শেষ পর্যন্ত মাথা নত করতে বাধ্য হয়েছে কাশ্মীরের 'প্রগাশ'-এর তিন কন্যা। সোমবার এই রকব্যান্ডের সদস্য তিন কিশোরীই আর গান না গাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। 

গত ডিসেম্বর মাসে শ্রীনগরে প্রকাশ্যে প্রথম পারফর্মেন্স করে এই তিন কিশোরী। তারপর থেকেই সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে তাদেরকে লাগাতার হুমকির সম্মুখীন হতে হয়। তাঁদেরকে ধর্ষণ করে হত্যা করে তাদের মৃতদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হবে বলেও শাসানো হয়। গতকাল গ্র্যান্ড মুফতি বসিরুদ্দিন আহমেদ গান গাওয়াকে 'অ-ইসলামিক' আখ্যা দিয়ে  এই তিন কিশোরীর নামে 'ফতোয়া' জারি করেন। সূত্রে খবর এই ফতোয়ার পরেই মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত ক্লাস টেনের এই তিনটি মেয়ে গান ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

গায়িকা-গিটারিস্ট নোমা নাজির, ড্রামার ফারহা দিবা, গিটারিস্ট অনীকা খালিদ, বছর পনেরোর এই তিন কিশোরী গত বছরের ডিসেম্বরে কাশ্মীরের 'ব্যাটেল অফ ব্যান্ড'-জিতে নেয়। ভাগ বসায় একচ্ছত্র পুরুষ-ব্যান্ড-সাম্রাজ্যে। তারপর থেকে মোবাইল আর ইন্টারনেটে কদর্য ভাষায় তাদের আক্রমণ করা শুরু হয়। 

গতকাল গ্র্যান্ড মুফতির ফতোয়ার পর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। গ্র্যান্ড মুফতির সঙ্গে গলা মেলান আরও কিছু ইসলামিক ধর্মীয় প্রধানরা। তবে হুরিয়ত প্রধান সায়েদ আল শাহ এ বিষয়ে গ্র্যান্ড মুফতির তীব্র সমালোচনা করেছেন।

হুরিয়তের অন্য এক গোষ্ঠীর প্রধান গিলানি অবশ্য বলেছেন এই রকম কোন হুমকিই দেওয়া হয়নি। পুরো দোষটাই মিডিয়ার কাঁধে চাপিয়ে তিনি বলেছেন মিডিয়া ছোট ব্যাপারকে বড় করছে। হুরিয়তের মুখপাত্র আয়াজ আকবর জানিয়েছে তাঁরা কোন ভাবেই এই ঘটনার সমর্থন করছেন না।

সারাদেশ জুড়েই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ ব্যক্তিগত ভাবে 'প্রগাশ'-এর সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন। ফতোয়া জারিকে 'একদল মূর্খের' কীর্তি বলে দাবি করেছেন তিনি। এর সঙ্গেই এই তিনটি মেয়েকে গান না ছাড়ারও অনুরোধ করেছেন ওমর আবদুল্লাহ।







First Published: Tuesday, February 05, 2013, 14:46


comments powered by Disqus