শেষ দেখা হল না আফজলের পরিবারের, কারফিউতে স্তব্ধ কাশ্মীর

Update: February 10, 2013 16:21 IST

তিহারের বন্ধ দরজার আড়ালে গতকাল আফজল গুরুর ফাঁসির পর এখন সরকার ও তাঁর পরিবারের মধ্যে শুধুই তোপ দাগার পালা। একদিকে কেন্দ্রীয় সরকার বলছে আফজলের ফাঁসির কথা আগেই জানানো হয়েছিল তাঁর পরিবারকে। অন্যদিকে সরকারের এই দাবি মানতে নারাজ গুরুর পরিবার।

আফজল গুরুর ভাইপো মহম্মদ ইয়াসিন গুরু জানিয়েছেন, তাঁরা সংবাদমধ্যমের কাছে থেকেই ফাঁসির খবর পান। শ্রীনগরের শোপর গ্রামে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "সরকারের তরফে আমাদের কিছুই জানানো হয়নি।" তিনি আরও বলেন, "মানবতার খাতিরে অন্তত পরিবারের সঙ্গে গুরুর কথা বলানো উচিৎ ছিল, তাঁর কোনও শেষ ইচ্ছা ছিল কি না তাও জানা হল না।" এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার জন্য সরকার পক্ষকেই দায়ী করেছে আফজলের পরিবার।

২০০১-এ সংসদ হামলায় দোষী সব্যস্ত আফজল গুরুকে গতকাল তিহারে ফাঁসি দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আর কে সিং সংক্ষেপে জানান, কাশ্মীরের এক উচ্চপদস্থ পুলিস আধিকারিক স্পিড পোস্টে তাঁর পরিবারকে আফজলের ফাঁসির খবর জানান। চিঠির প্রাপ্তি স্বীকারও করা হয়েছিল বলে দাবি করেন সিং।

রবিবারেও কারফিউ জারি রয়েছে কাশ্মীর উপত্যাকায়। আফজলের ফাঁসির এক দিন কেটে গেলেও এখনও থমথমে কাশ্মীরে জনজীবন। স্থানীয় প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, গতকাল বেশ কয়েকটি জায়গায় কারফিউ লঙ্ঘন হওয়ার জেরে আজ সকাল থেকে পাহাড়ের নিরাপত্তা ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে নতুন করে পাহাড়ে কোনও অশান্তির খবর পাওয়া যায়নি।

কার্ফুর দ্বিতীয় দিনেও উপত্যাকায় মোবাইল পরিষেবা ও খবর চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ রাখা হয়েছে। শনিবার পাহাড়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের সংঘর্ষে প্রায় ৪০ জন আহত হন। গতকাল সকাল ৮টা। কাক-পক্ষী টের পাওয়ার আগে, দিল্লি তিহার জেলে সংসদ ভবন হামলার অন্যতম চক্রী আফজল গুরুকে ফাঁসি দেওয়া হয়। তার পর থেকেই কাশ্মীরে নতুন করে হিংসা ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে কাশ্মীর উপত্যাকায়।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।